রাউজানে ২ হাসপাতালে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মীর আসলাম, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজানে ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দুইটি সরকারি হাসপাতালের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। রোগ নির্ণয়ের জন্য কেনা এই যন্ত্রপাতি চালানোর টেকনেশিয়ান ও পরীক্ষার রির্পোট দেখার মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এগুলো অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হচ্ছে। রাউজান সদরে ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পৌর সদরে অবস্থিত সুলতানপুর ৩১ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে এমনটা জানা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ’ মন্ত্রী মেজর জেনারেল এম. শামসুল হক সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। প্রথম দিকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট থাকলেও গত কয়েক বছর আগে এটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। পুরাতন ভবনের সঙ্গে নির্মাণ করা হয় বর্ধিত কলবরে নতুন ভবন। কিন্তু গত কয়েক বছরেও এই হাসপাতালে সেবাদানের জন্য প্রয়োজনী জনবল সংযুক্ত করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য দেওয়া হয়েছে ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফ, এক্স-রে মেশিনসহ রোগ নির্ণয়ের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি। এ যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও পরীক্ষার রির্পোট করার মত চিকিৎসক ও টেনেশিয়ান না থাকায় বছরের পর বছর পড়ে আছে গুদামে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে রাউজান পৌর সদরে রয়েছে আরো একটি ৩১ শয্যার হাসপাতাল। সুলতানপুর ৩১ শয্যা হাসপাতাল নামে পরিচিত এই হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সীমিত সম্পদ ও জনবল নিয়ে চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয় ২০০৩ সালে। পরে বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ২০০৯ সালে এটি দ্বিতীয় বার উদ্বোধন করতে এসে প্রয়োজনীয় জনবল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনো তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। অবশ্য এই হাসপাতালের জন্যও কয়েক কোটি টাকা যন্ত্রপাতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতিগুলো। পরিদর্শনে দেখা যায় যায়, যন্ত্রপাতির উপযোগি তাপমাত্রা রক্ষায় হাসপাতাল ভবনে সংযুক্ত আছে চারটি এসি। ব্যবহার না থাকায় এর সবকটি এসি নষ্ট হয়ে আছে। রাউজানের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মনোয়ার হোসেন। তার অধীনে থাকা দুটি হাসপাতালেই রয়েছে জনবল সংকট। ২৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও ৬টি পদই রয়েছে শূন্য। এছাড়া ৫ জন সুইপার পদের মধ্যে আছে ১ জন। ২ জন রাধুনী ও ২ জন গার্ড পদ থাকলেও এই পদে কোনো লোক নেই। যোগাযোগ করা হলে এই চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, মুসলিমা আকতার নামের এক চিকিৎসক সদর হাসপাতালে নিয়োগ পেলেও আট মাস ধরে তিনি অনুপস্থিতি। এই চিকিৎসক দেশে না বিদেশে সেই সর্ম্পকেই ধারণা করা যাচ্ছে না।

রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনবল না থাকায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তিনি দাবি করেন, জনবল পেতে ইতিমধ্যে একাধিকবার উর্ধ্বতন মহলের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন। এই সংঙ্কট সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীও উর্ধ্বতন মহলে যোগযোগ রক্ষা করে আসছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, দেশের বহু হাসপাতলে এ রকম জনবল সংঙ্কট রয়েছে। এই সংঙ্কট সমধানের জন্য মন্ত্রালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাত এই সংকট সমাধান হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।

 

"