ভেঙে গেছে কলেজের ছাত্রাবাসসহ বাড়িঘর

ফুলবাড়ীতে অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পৌরসভায় অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়ছে সরকারী কলেজের ছাত্রাবাসসহ একাধিক কাঁচা-পাঁকা ঘরবাড়ী। এদিকে ড্রেন নির্মাণে পৌর মেয়রের সেচ্ছাচারীতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে অপরিকল্পিভাবে ড্রেন খনন করতে গিয়ে ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের ছাত্রাবাস ভেঙে পড়ায় গত বুধবার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন অধ্যক্ষ প্রফেসর নজমুল হক। এছাড়া রাস্তার জায়গা উদ্ধার ও অপরিকল্পিভাবে ড্রেন নির্মাণ করার প্রতিবাদ জানিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউএনও’র মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ করেন পৌর সভার পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের সাবেক দুই পৌর কাউন্সিলরসহ গ্রামবাসীরা। একই ভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেছেন সুজাপুর গ্রামের বাসীন্দা ডাক্তার লিও চৌধুরী।

ফুরবাড়ী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুর হক বলেন, পৌর মেয়রকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও পৌর মেয়র সেই চিঠির কোন জবাব না দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেন খনন করলে ভেঙে পড়েছে কলেজের ছাত্রাবাসের ভবনটি। সুধু তাই নয় ইতোপুর্বেও উত্তর সুজাপুর গ্রামের ড্রেন সরকারী কলেজের প্রাচির ভেদ করে দেওয়ায়, কলেজের প্রাচির ভেঙে পড়েছে। এদিকে পৌর মেয়রের সেচ্ছাচারীতা ও অনিয়মের প্রতিবাদে বুধবার বিকালে ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়র ড্রেন নির্মাণে পক্ষ-পাতিত্ব করে তার নিজস্ব ব্যাক্তি ও তার সঙ্গ-পাঙ্গদের বাড়ীর সামনে সরকারী জায়গা ছেড়ে দিয়ে অন্যর জায়গার উপর ড্রেন নির্মাণ ও খনন করে একাধিক নিরিহ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করছেন।

সুজাপুর গ্রামের বাসীন্দা মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেন খনন করতে গিয়ে তার বাড়ীর প্রায় ১০০ ফিট প্রাচীর ভেঙে গেছে। অথচ মেয়রের কর্মী বলে পরিচিত এক ব্যাক্তি রাস্তার উপর প্রাচীর নির্মাণ করলেও পৌর মেয়র সেই দিকে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর মেয়রের দৌরাত্ব ও স্বজনপ্রীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পৌরবাসী।’

সাবেক পৌর কাউন্সিরর ও প্যানেল মেয়র এসএম নুরুজ্জামান বলেন, ‘জনগনের মতামতের উপর ভিত্তি করে পৌর পরিষদ কর্মপরিকল্পনা তৈরী করে, কিন্তু বর্তমান পৌর মেয়র কর্মপরিকল্পনা তৈরী করে তার নিজের স্বার্থে, এই জন্য পদে পদে হযরানীর শিকার হচ্ছে পৌরবাসী।’

এ বিষয়ে কথা বলতে পৌর মেয়রের মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিফ করেনি।

এই বিষয়ে প্যানেল মেয়র মামুনুর রশিদ এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মেয়র পরিষদের কোন মতামত গ্রহন করেনা, তার ইচ্ছামত কাজ করে, এই জন্য তিনিসহ পরিষদের ৯ জন কাউন্সিলর বিগত তিন মাস মাসিক সভা বর্জন করেছিল এর পরেও মেয়র তার একক ইচ্ছামত কাজ করে যাচ্ছে।

 

"