গাছ কেটে বিদ্যালয়ের জায়গায় গরুর খামার

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আবদুর রউফ, ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকার ধামরাইয়ের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা ও খেলার মাঠ দখল গরুর খামার তৈরি করেছেন এক প্রভাবশালী। এমনকি স্কুলের গাছ কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার উপজেলার বড়নালাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটি ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বারবর লিখিত দিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, আবদুস সামাদ প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কারো কথা না শুনে স্কুলের জায়গা দখল করে বর্জ্যরে ভাগাড় তৈরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেও কাজ হয়নি। সরকারি হাউস বিল্ডিংয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ এই জমি দখল করেছেন বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। তবে তিনি বলছেন, এটা তাদের রেকডিয় জায়গা। স্কুলের লোকজন সেখানে গাছ লাগিয়েছেন বলে তিনি কেটে নিয়েছেন।

ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী বলেন, জায়গা দখলের শুরুতেই স্থানীয়রা বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের কথায় কান না দিয়ে স্কুলের খেলার মাঠের গাছ কেটে বাড়িঘর ও খামার তৈরি করেছেন প্রভাবশালী আবদুস সামাদ। তারা জানান, বিদ্যালয়ের কাছে তৈরি করা একাধিক খামারের বর্জ্যরে কারণে শিক্ষার্থীরাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া মাঠের একাংশে গরুর খামার তৈরি করে মাঠের ভেতর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে খেলতে পারছে শিক্ষার্থীরা। মাঠের ভেতর বর্জ্যে জমে থাকা পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি নিজের জায়গা স্কুলের নামে দিয়েছি এবং নিজে এই গাছগুলো লাগিয়েছি। এই জায়গা ও গাছ স্কুলের। এগুলো কেটে নেওয়ার কোনো এখতিয়ার কারো নেই।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুস সামাদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা রেকর্ডিয় জায়গায় বাড়ি করেছি, সরকারি জায়গায় কেন ঘর তৈরি করতে যাব। আমাদের জায়গার অভাব আছে নাকি।’ জায়গা দখল ও গাছ কাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার জায়গায় স্কুলের লোকজন গাছ লাগিয়েছেন, তাই আমি গাছ কেটে নিয়েছি। এছাড়া আমার জায়গায় আমি ইট দিয়ে ওয়াল তৈরি করছি।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কানিজ নাসিমা বলেন, স্কুলের জায়গা দখল ও গাছ কেটে নেওয়ার ব্যাপারে আমি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। পরে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের আওতাধীন ওয়ার্ড মেম্বার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ইমান আলী বলেন, সরকারিভাবে মাঠটি জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ, যা পর্চায় খেলার মাঠ উল্লেখ আছে। তাদের বার বার নিষেধ করার পরও আমাদের কথা না শুনে মাঠ ও গাছকেটে জায়গা দখল করে বাড়িঘর করছেন। এতে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, আবদুস সামাদ এর আগেও জায়গা দখল করতে গেলে আমি সাবেক এমপি এম এ মালেক ভাইকে বলি, তিনি এসে দেখে সামাদকে ওয়াল নির্মাণের নিষেধ করেন। একইভাবে গাংগুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কাদের মোল্লা বলেন, বিষয়টি এলাকাবাসী জানানোর পর আমি নিজে গিয়ে ওয়াল তৈরি ও গাছকাটায় বাধা দেই। কিন্তু তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের জায়গা দখল করে গাছ কেটে বাড়ি নির্মাণ করছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে এর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানতে চাইলে ধামরাই ইউএনও সামিউল হক বলেন, স্কুলের খেলার মাঠ ও সরকারি জায়গার গাছ কেটে জায়গা দখল করে কেউ বাড়ি ও গরুর খামার তৈরি করতে পারবেন না। পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কোনো কিছু আমরা সহ্য করব না। সঠিকভাবে তদন্তসাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"