কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

গেটসংলগ্ন গতিরোধক ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা, দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) গেইট সংলগ্ন সড়কে দুর্ঘটনা রোধে গতিরোধক স্থাপনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন। পরে শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে গেইট ও হল সংলগ্ন সড়কে গতিরোধক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক মাস না যেতেই গতিরোধক ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে করে আবারো বখাটে বাইকার ও বেপরোয়া চালকদের আতঙ্ক এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গতিরোধক গুলো ভেঙে ফেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মধ্যেই কয়েকদিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে বেপরোয়া সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এর কদিন পরে সন্ধ্যায় নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী এক বখাটে বাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা বলছেন, যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক কিলোমিটার দূরে নির্মিত হয়েছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ এবং ‘ডাইনোসর পার্ক’ নামে দুটি অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে সিসিএন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। এ কারণে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় পর্যটক এবং তাদের বহনকারী গাড়ির ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু এসব যানবাহন চলাচলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই নির্ধারিত কোনো গতিসীমা বা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, ভিসির বাসভবন এবং আবাসিক হলগুলোর সামনে সাতটি বিপজ্জনক মোড় থাকলেও নেই কোন গতিরোধক। আর এই সুযোগে বেপরোয়া গতিতে চলছে বিভিন্ন ভারী যানবাহনসহ সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। তারা জানান, ফটোকপি, হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রায় সব দোকানই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের উল্টোদিকে সড়কের পাশে অবস্থিত। যেকারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই সকাল-সন্ধ্যা বেশ কয়েকবার এই সড়কটি পারাপার করতে হয়।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার জানান, গতিরোধক তুলে নেওয়ায় ছাত্রী হলের সামনে বেপরোয়া যান চলাচল ফের বেড়ে গেছে। হলের সামনে এলেই বখাটেদের মোটরসাইকেলের গতি বেড়ে যায়। আমরা অনেক সময় হলের ফটকে থাকি, তখন তটস্থ থাকতে হয় হঠাৎ বুঝি মোটরসাইকেল বা অন্যান্য কোনো যানবাহন গায়ের উপর উঠে গেল। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছি। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ থেকে গতিরোধক তুলে নেওয়ার মতো ঘৃণিত কাজ আর হতে পারে না। আমাদের ধারণা স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল, বখাটে চালকরাই এই কাজগুলো করেছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, উপাচার্য স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি, তিনি দ্রুত গতিরোধক নির্মাণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

 

"