সোনারগাঁয়ে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

প্রসূতি মৃত্যুতে পালিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় অমান্তিকা (২০) নামের এক প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় উত্তেজিত নিহতের স্বজনারা ক্লিনিক ভাংচুর করেছেন। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত লোকজন পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা মোগরাপাড়া চৌরাস্তার সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয়তলায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত অমান্তিকা উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড়সাদিপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে ও পিন্টু মিয়ার স্ত্রী।

গৃহবধুর স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, গত শুক্রবার বিকালে স্ত্রীর সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে কর্তব্যরত গাইনি ডাক্তার নূরজাহানের নেতৃত্বে সিজার অপারেশনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

গৃহবধূর স্বজনরা জানান, অপারেশন সেলাইয়ের পর রাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এমনকি পেট ব্যাথাসহ কয়েকবার বমি হয়। এ সময় নার্সরা রোগীর অবস্থার কথা ডা. নূরজাহানকে জানালে শনিবার সকালে তাকে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে নিতে বলেন। সেখানে নিয়ে গেলে গৃহবধূকে ২ দফা অপারেশন করেন তিনি। এতে প্রসূতির অবস্থা আরো অবনতি হলে স্বজনদের জানান, রোগীর কিডনিতে সমস্যা আছে, এ জন্য তাকে দ্রুত ঢাকার গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। শনিবার রাতেই স্বজনরা রোগীকে ওই হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ দিকে অমান্তিকার মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার সকালেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মৃতের স্বজনরা ক্লিনিকটি ভাংচুর করে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডা. নূরজাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানতে চাইলে হাসপাতালের মালিক মানসুরা বেগমের ভাই সৈয়দ শরিফউদ্দিন কাদেরী জানান, আমার বোন বর্তমানে আমেরিকা রয়েছেন। হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় মালিকপক্ষের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের। তবে হাসপাতালে ভাংচুরের ঘটনায় আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভাংচুরের ঘটনায় হাসপাতালের মালিকপক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

"