চৌগাছায় উরসের অনুমোদন নিয়ে মেলা

স্টল বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছায় উরসের অনুমতি নিয়ে মেলা আয়োজন করে লাখ লাখ টাকার স্টল বাণিজ্য করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মেলায় অংশ নেওয়া হাজারো ছোট-বড় স্টল মালিকদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা মেলা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ওই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার হাজরাখানা গ্রামের পীর বলুহ দেওয়ান (রহ.) এর রওজা শরীফকে ঘিরে ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার শুরু হয় ওরস। একে কেন্দ্র করে মেলা আয়োজন করে পরিচালনা কমিটি। ইজারা গ্রহণ ছাড়াই মেলা আয়োজন করে স্টল বরাদ্দ বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, বলুহ মেলার অনুমোদনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মতামত চাওয়া হয়েছিল। সেখানে শুধুমাত্র ওরসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য কোন কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ওরসের বাইরে কিছু হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌগাছার পীর বলুহ দেওয়ান (রহ.) রওজা ঘিরে কপোতাক্ষ নদের তীরে সম্পন্ন হয়েছে মেলার প্রস্তুতি। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিক, কাঠ ও স্ট্রিলের আসবাবপত্র, খেলনা, প্রসাধনী, গার্মেন্টস, হোটেল-বেকারি, মিষ্টি, নাগরদোলা, অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রি, ক্রোকারিজ, যাদু প্রদর্শনী, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ হাজারের অধিক স্টল বসিয়েছে। এছাড়াও কপোতাক্ষ নদে স্পিডবোর্ড চালানো, মৃত্যুকূপে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালানোর মত বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে মেলার অনুমোদন না পেলেও থেমে নেই উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার স্টল বাণিজ্য। ওই শীর্ষ নেতা মেলার হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও হাজরাখানা ঈদগাহ ময়দান ৮০ হাজার টাকায় ইজারা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারা নেওয়া এক ব্যক্তি নিজেও নাম না প্রকাশের শর্তে প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ওই নেতার কাছ থেকে তিনি ইজারা নিয়ে স্টল সাজিয়েছেন। এছাড়াও মেলা পরিচালনা কমিটির নামে স্টল মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে টাকা। এভাবেই প্রতিবছরই মেলায় লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করা হয়। সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। এতে প্রতিবছর সরকার লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রায় ১৫ বছর মেলা পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মুকুল। তিনি বলেন, মেলা ব্যক্তি মালিকানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে বসে। জমির মালিকরা দোকানদারদের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া আদায় করে থাকে। এছাড়া অনেক খরচ থাকে। এজন্য মেলা পরিচালনা কমিটিও টাকা আদায় করে। খরচের পর অবশিষ্ট টাকা এলাকার মসজিদ, মন্দির ফান্ডে জমা দেয় মেলা পরিচালনা কমিটি। এবার আমি কমিটিতে নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে জয়নাল আবেদন মুকুল বলেন, গত বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা মত উদ্ধৃত্ত ছিল। সেই টাকা মসজিদ-মন্দিরে দেওয়া হয়েছে। কমিটির লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে নেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে নামপ্রকাশ না করার শর্তে চৌগাছার একজন সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে লম্বা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিই মেলা পরিচালনা করে। মেলা ইজারা দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র জেলা প্রশাসন থেকে অনুমিত দেওয়া হয়। ফলে সরকারি কোষাগারে কোন টাকা জমা হয় না। কমিটির সদস্যরা টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন।

চৌগাছা উপজেলার বর্তমান নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনও মেলার অনুমতি সংক্রান্ত কোন চিঠি পাইনি। কারা মেলা পরিচালনা করছেন আমার জানা নেই। জেলা প্রশাসন থেকে একটি প্রতিবেদন চেয়েছিল পাঠিয়ে দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জাহিদুল ইসলাম বলেন, মেলার কোন টেন্ডার হয় না। স্থানীয় সংসদ সদস্য মেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করেন, একইটুকু জানি। মেলায় আদায় করা টাকা কিভাবে খরচ হয় আমার জানা নেই। আমি নতুন এসেছি। মেলার অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, আমি বাইরে আছি। এই মুর্হূতে বলতে পারছি না।

 

"