নিজস্ব জায়গা ছেড়ে স্কুলের পাশে হাট

উল্লাপাড়ার পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে ৯ বছর ধরে বসছে পূর্বদেলুয়া হাট

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

নিজস্ব জায়গা থাকতেও নয় বছর ধরে বিদ্যালয়ের পাশে বসছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্বদেলুয়া হাট। প্রশাসনকে না জানিয়ে পূর্বের জায়গা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে দোকান আর পশু বিক্রির জায়গা। এতে মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। অপর দিকে বেদখল হতে শুরু করেছে হাটের নিজস্ব জায়গা।

প্রায় দেড়শ বছর আগে উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়া নদী পাড়ে গড়ে উঠে পূর্বদেলুয়া হাট। নয় বছর আগে হাটের নাম-ঠিকানা একই রেখে দেড় কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ের জায়গা হাট বাসে স্থানীয় কয়েকজনের সিদ্ধান্তে। প্রবীণদের বক্তব্য অনুযায়ি, প্রায় দেড়শ বছর এই হাট স্থাপিত হয়। তখন থেকেই বিভিন্ন পণ্যের জমজমাট কেনাবেচা ছিল। আগে থেকে সপ্তাহের দুইদিন বসতো। জায়গা বদলের পর হাটের নিজস্ব জায়গার অধিকাংশ বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে গড়ে উঠেছে ধান চাতাল।

বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে, পুর্বদেলুয়া হাটের নিজস্ব জায়গার পরিমাণ ৫৫ শতক। উপজেলার সবচেয়ে পুরানো কয়েকটি হাটের এটি একটি। আগে ইউনিয়ন বোর্ড থেকে হাটের ইজারা ডাক হতো বলে জানা যায়।

বেশ কয়ক বছর থেকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারি ভাবে হাটের বাৎসরিক ইজারা হয়। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় (ইউএনও) সূত্র জানায়, এ বছর (বাংলা সাল) ৭৪ হাজার ৮২০ টাকা ইজারা মূল্যে মো. শামছুল ইসলাম ইজারা নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালে নিজের জায়গা ছেড়ে নতুন জায়গায় হাটটি বসান হয়। সে সময় হাটের ইজারা নিয়ে ছিলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির উৎসাহ ও উদ্যোগে নিজস্ব জায়গা ছেড়ে নতুন জায়গায় হাট লাগানো হয়। এখানেও সপ্তাহে দুইদিন হাট বসছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার হাটে গরু কেনাবেচা হয়।

জানতে চাইলে পরিবর্তিত জায়গার প্রথম ইজারাদার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুর্বদেলুয়া গ্রামের বেশ কয়েকজনের সিদ্ধান্তে নিজস্ব জায়গা ছেড়ে নতুনভাবে এখনকার জায়গায় হাট বসানো শুরু হয়। তাদের লক্ষ্য ও চিন্তা ছিল এখনকার জায়গায় হাটটি লাগিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করা। এর জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার আর বাস্তবায়ন করা যায়নি। তিনি আরো জানান, প্রশাসনকে লিখিতভাবে কোন কিছুই না জানিয়ে হাটটি এখানে লাগানো হয়েছে। এখনো সেভাবে চলছে।

জানতে চাইলে চলতি ইজারাদার মো. শামছুল ইসলাম জানান, তার নিজেরও জানা আছে হাটের নিজস্ব জায়গা রয়েছে। যেহেতু আগের ইজারা নেওয়া ব্যক্তিরা এখানেই হাটটি লাগিয়েছেন, তাই তিনি চাইলেও তার একার পক্ষে নিজস্ব জায়গায় হাটটি লাগানো সম্ভব নয়।

সরেজমিনের দেখা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই হাটটি লাগানো হচ্ছে। বিদ্যালয় ভবন ঘেঁষে দোকান আর গরু খাটাল রয়েছে। এ হাটের আরেক পাশ দিয়ে পুর্ণিমাগাতী পাকা সড়ক রয়েছে। অপর দিকে হাটের নিজস্ব জায়গার পাশে একটি ধান কল রয়েছে। এর মালিক মো. বক্কার মিয়া হাটের বেশি অংশ জায়গা ধান শুকানোর চাতাল করে দখলে নিয়েছেন। তিনি জানান, হাটটি এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর জায়গা এমনিতেই খালি পড়ে ছিল। তাই তিনি মাটি ফেলে চাতাল করেছেন। এখানে আবার হাটটি লাগানো হলে অবশ্যই দখল ছেড়ে দেবেন বলে জানান।

পুর্বদেলুয়া হাটটি পরিচালনায় একটি কমিটি রয়েছে। এতে যুক্ত আছেন বড়হর ইউপির এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) শ্রী বাবলু রায়। জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, নিজস্ব জায়গা ছেড়ে যাওয়ায় পূর্বের জায়গা বেদখল হয়েছে। এখনকার জায়গায় হাট লাগানোর কারণে পাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার কিছুটা হলেও বিঘিœত হচ্ছে। হাট তার নিজস্ব জায়গাতেই লাগানো দরকার বলে তিনি মনে করেন। হাটটি তার নিজস্ব জায়গায় গেলে সেখানেও উন্নয়ন হবে।

হাটের বর্তমান জায়গা পুর্বদেলুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাবি করে প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে আছি।

আমি আসার পরের বছর থেকে এখানে হাট লাগানো হয়। সে সময় অস্থায়ীভাবে বসানো হাটটি বিদ্যালয়ের পিছনের সরকারি খাল ভরাট করে স্থানান্তরের কথা ছিল। অথচ দীর্ঘদিনে তা করেননি।’ বিষয়টি সে সময় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে ছিলেন। তিনি জানান, হাটের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। আগামী দেড়-দুই মাসের মধ্যে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করা হবে। তখন আর এখানে তার বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসতে পারবে না।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমজি মাহমুদ ইজদানী প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট লাগাতে তিনি নিষেধ করে ছিলেন। এখনও সেখানে হাট লাগানোর বিষয়টি তিনি জরুরি ভাবে দেখবেন।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, নিজস্ব জাযগা ছেড়ে অন্য জায়গায় পুর্বদেলুয়া হাট লাগানো বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

 

"