কাজে আসছে না সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার ভবন

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের ১৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনও করা হয়েছে। কিন্তু এখনো চালু হয়নি নতুন ভবনের কার্যক্রম। চিকিৎসক সঙ্কটের পাশাপাশি যন্ত্র চালানোর মতো উপযুক্ত লোকবলও নেই বলে কাজে আসছে না ভবনটি। এর ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদন না পেলে নতুন ভবন চালু করা সম্ভব নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীর ভীড়। ১০০ শয্যার হাসপাতালে রোগী প্রায় ২৬০ জন। পুরো ফ্লোর জুড়ে রোগীদের বিছানা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসা কর্মকর্তাদের। তবে নতুন ভবনে শুধু বহির্বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা সেখানে রোগী দেখছেন।

খোঁজ জানা গেছে, ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের ১৫০ শয্যার নতুন ভবন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এইচপিএনএসডিপি) আওতায় নির্মিত এই ভবনে রোগীদের জন্য রয়েছে ১৫টি কেবিন ব্লক, ৫টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এছাড়াও রয়েছে আইসিইউ বিভাগ, এসডিইউ বিভাগ, সিসিইউ বিভাগ, সিটি স্ক্যান, বহির্বিভাগ চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিজস্ব বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, চলাচলের জন্য ৩টি সিঁড়ি ও ২টি বেড লিফ্ট। এগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের ৪ জুন ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পায় হাসপাতালটি। এরপর ১৬ বছর ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় ২১ চিকিৎসকের জায়গায় বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট ৬৬ জন চিকিৎসক ও স্টাফের জন্য ১২০ পৃষ্ঠার একটি চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন। ২৯ আগস্ট চাহিদাপত্রটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম স্বাক্ষর করে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। স্বাস্থ্য, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত হবে বলে জানায় সূত্রটি ।

হাসপাতাল ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ১৫০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করেন সদর আসনের তৎকালিন সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। উদ্বোধনের এক বছর পরেও বেডে অক্সিজেন সরবরাহ লাইন স্থাপনসহ বেশকিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি।

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ৫০ শয্যারই পর্যাপ্ত জনবল নেই। চিকিৎসক নেই। ১০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনের ১৬ বছর পর জনবলের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। চাহিদাপত্রটি স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২৫০ শয্যার নতুন ভবন চালুর আগে জনবল নিশ্চিত করতে হবে। লোকবলের নিয়োগ, সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ভবনটিতে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সদর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিনিধি। তিনি জানান, গত ১০ বছরে হাসপাতাল সেবা কমিটির কোন মিটিং হয়নি। ১৫০ শয্যার যে ভবন উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন সাবেক এমপি তা এখনো হস্তান্তরই হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি। আবার গণপূর্ত বিভাগও হাসপাতালের কাছে হস্তান্তর করেনি।

তিনি আরোও বলেন, হাসাপাতালের বেহাল অবস্থা আমার নজরে আসার পরে ২০০৩ সালে ১০০ শয্যার যে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে সেটির আলোকে মন্ত্রণালয়ে জনবলের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে হাসপাতালের সেবার মান কিছুটা উন্নত হবে। এছাড়াও ১৫০ বেডের যে ভবন হস্তান্তরের প্রক্রিয়া রয়েছে এটাকে তরান্বিত করার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করেছি যেন অসম্পন্ন কাজ দ্রুত শেষ করে। ভবন হস্তান্তর হয়ে গেলে ২৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনও করে ফেলব এবং জনবলের জন্য প্রচেষ্টা চালাব।

"