হালদায় নবনির্মিত বেড়িবাঁধে ধস

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ২নং ধলই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হালদা নদীর নবনির্মিত বেড়িবাঁধ ধসে পড়েছে। গত কয়েক দিন আগে দিনগত রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে হালদা নদীর ভাঙনরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা করা হয়। উপজেলার মদুনাঘাট থেকে হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে প্রায় ২২ কিলোমিটারসহ নাজিরহাট পর্যন্ত ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন মাস্টার জানান, এই এলাকায় হালদা নদী খুব গভীর। তাছাড়া বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধের পশ্চিমাংশের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার কারণে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে থাকে। ফসলি জমির মাটি কাটা অংশে জমে থাকা পানি ভাটার সময় বেড়িবাঁধের নিচের অংশ দিয়ে সরতে গিয়ে বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য পাশে সিমেন্টের ব্লক নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। ব্লকগুলো বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে স্থাপন করা হলে এ বিপর্যয় ঘটত না।

বেড়িবাঁধের ধসে যাওয়া অংশের বাসিন্দা শাহাজাহান জানান, রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বেড়িবাঁধ ধসে পড়লে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বেড়িবাঁধের ধসে পড়া অংশ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানান তিনি। তাহলে হালদার ঢলে বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বিধ্বস্ত হয়ে এলাকার অনেক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা আলম জানান, বেড়িবাঁধ ধসে যাওয়ায় সেখানে চলাচল ঝুঁকিপূণ হয়ে পড়েছে। আগে বেড়িবাঁধ দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারলেও বর্তমানে পারছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়নের বোর্ডের (পাউবো) এক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বেড়িবাঁধ ধ্বসে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারকে এখনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। বিল পরিশোধের আগে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে কাজ বুঝে নেওয়ার পর বিল পরিশোধ করা হবে। তাছাড়া বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণসহ নির্মাণকাজ পুরাপুরি সম্পন্ন করতে সর্বমোট ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্ধ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে।

 

"