রেশমের ন্যায্যমূল্য পেয়ে খুশি ভোলাহাটের চাষিরা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রেশম গুটি বস্তায় ভরছেন চাষি সমরুদ্দিন। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি পারিবারিকভাবেই রেশম চাষের সঙ্গে জড়িত। পরিবার নিয়ে বসবাস করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চরধরমপুর গ্রামে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেশম চাষ করলেও নায্যমূল্য না পাওয়ায় তেমনভাবে লাভের মুখ দেখেননি। তার পরেও ফিরে আসেননি রেশম চাষ থেকে। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে লোকসানের পরেও চাষ করেছেন রেশম। তবে বর্তমানে রেশমের ফলন ভালো ও নায্যমূল্য পাওয়ায় খুশি তিনি ও তার পরিবার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি আবদুল হাকিম ও পিডি আবদুল মান্নান যোগদান করার পর থেকে ভোলাহাট উপজেলার ১৬০ জন রেশম চাষি রেশমের বাম্পার ফলন ও নায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমানে রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রেশম চাষিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন।

এছাড়াও বর্তমানে জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ করছেন। সে ডিম থেকে এক বছরে চারটি বন্দ অগ্রণী, চৈতা, জৈষ্ঠি ও ভাদরি বন্দে রেশমের বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষিরা। তিনি আরো বলেন, চারটি বন্দে ১০০ ডিমে আগে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ কেজি ফলন হতো। আর বর্তমানে ১০০ ডিমে ৯০ থেকে ৯৫ কেজি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আগে মণপ্রতি দাম ছিল মাত্র ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা এখন দাম ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চাষিদের রেশম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

সমরুদ্দিন জানান, আগ্রহী চাষিদের মাঝে উন্নতমানের তুঁত চারা সরবরাহসহ আর্থিক সহায়তা দিলে রেশম চাষ আগের ঐতিহ্য ফিরে পাবে। রেশম চাষিদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরবে।

একই কথা জানান চরধরমপুরের চাষি বজলুর রশিদ, সায়েদা খাতুন, তোফাজ্জুল হক ও বজরাটেক গ্রামের হামিদুল। তারা জানান, রেশমের বাম্পার ফলনে তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসছে। তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষিত করার সুযোগও পাচ্ছেন। ভোলাহাট রেশম বোর্ডের ফার্ম ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম জানান, রেশমের বাম্পার ফলনের প্রধান কারণÑ জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান ও বাড়িতে গিয়ে পরামর্শ দেওয়ায় রেশমের বাম্পার ফলন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে ভোলাহাট রেশম বোর্ডের নিজস্ব জমিতে রেশম চাষ হয়েছে ৬৭ বিঘা ও পুরো উপজেলায় চাষ হয়েছে ২১৭ বিঘা জমিতে।

 

"