দুর্গাপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

টেন্ডার ছাড়াই ১১ বছর ধরে নিম্নমানের খাবার

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

এস এম শাহাজামাল, দুর্গাপুর (রাজশাহী)

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের নিম্মমানের খাবার সরবরাহের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না মানসম্মত খাবার। প্রতিনিয়ত রোগীদের সঙ্গে খাবার নিয়ে প্রত্যারণা করে চলেছে। মানা হচ্ছে না সরকারি খাবারের তালিকাও। এমনকি ২০১৯ সালের আট মাস পার হলেও খাবারের তালিকাও নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন দীর্ঘ ১১ বছরেও খাবারের টেন্ডার হচ্ছে না। জানা গেছে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা তার ছেলে বাদলের নামে টেন্ডার করিয়ে খাবার দিয়ে আসছে। ফলে একই ঠিকাদার বছরের পর বছর অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের কাগজে কলমে নামেই মাত্র চেয়ারম্যানের ছেলের। কিন্তু খাবার সরবরাহের সব কিছু চলে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছার নামেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে যে সকল রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের খাবার দেওয়া হচ্ছে অতি নিম্নমানের। ভাল চালের ভাত দেওয়ার কথা থাকলেও নিম্নমানের চালের ভাত দেয়া হচ্ছে রোগীদের। রুই, কাতলা মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় রোগীদের পোনা মাছ, সিলভার কার্প মাছ দেয়া হচ্ছে। নিম্নমানের পোল্ট্রি মুরগি ও বাজারের সবচেয়ে কম মূল্যের ছোট ডিম দেওয়া হচ্ছে। খাসির মাংস ও দেশী মুরগির মাংস কখনো খেতে পায় না রোগীরা। শিশুদের জন্যে দুধসহ অন্যান্য খাবার দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তারা পাচ্ছে না। এমনকি ডাইবেটিস রোগিদের খাবার তালিকা আলাদা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সকলকে একই রকম নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। কেবিন কিংবা পেয়িং বেড ভাড়া নেওয়া রোগীরাও উন্নতমানের খাবার পাচ্ছেন না। অথচ রোগীরা সারাদিনে খাবার পান প্রায় ৭৫ টাকার মতো। এভাবে টাকা বাঁচিয়ে পকেটভারি করা হচ্ছে।

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা ও তার ছেলে ঠিকাদার বাদল প্রতিমাসেই হাসপাতালে অতিরিক্ত বেশি রোগি ভর্তি দেখিয়ে ভূয়া বিল ভাইচার তৈরি করে। কারন হাসপাতালে দুই একটি সপ্তাহ রোগি ভর্তি কম থাকে আর এ সময়টা রোগি ভর্তি বেশি দেখিয়ে ভূয়া বিল ভাইচার তৈরি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সরজমিনের হাসপাতালে গিয়ে রোগি মোহাম্মদ আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনে কোন খাবারও ভালো না। নিম্মমানের খাবার দেওয়া হয়। হাসপাতালের খাবার খাওয়া যায় না। সে জন্য রোগিরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি তরিপতপুরের কাজল বলেন, খাবার তো নিম্মমানের। এমনকি নিয়ম মতো ও খাবার দেওয়া হয় না। তাদের ইচ্ছে মতো দেওয়া হয়। সকালেও দেওয়া হয় নিম্মমানের নাস্তা।

গতকাল শনিবার সরজমিনে হাসপাতালের নার্স ইনর্চাজ নাসিমা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীদের ২০১৯ সালের তালিকা এখনো দেওয়া হয়নি। এমনকি খাবার নিয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। কারণ এখানে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছার ছেলে সাথে যোগাযোগ করেন। তা হলেই ভালো করবেন। কারন তিনিই খাবার পরিবেশন করেন। তার ইচ্ছে মতো খাবার দেওয়া হয়। এখানে কোন সরকারি মেনু মানা হয় না।

দুর্গাপুর উপজেলা হাসপাতালে অফিস প্রধান সহকারি আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের কাছে খাবারের কোন তালিকা নেই। আমরা কিছু জানি না। যা কিছু আছে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছার ছেলে বাদলের কাছে। আপনার তার সাথে যোগাযোগ করেন।

হাসপাতালের খাবারের ঠিকাদার বাদল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করে আসছি। এমনকি উন্নত মানের খাবার দিয়ে আসছি রোগিদের। এছাড়া উন্নত মানের নাস্তাও দিই। বিগত দিনেও আমরা ভালো খাবার দিয়ে আসছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান নাজমুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যেক বছরই টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু তার নামেই আসে। শুধু এবার টেন্ডার করার প্রয়োজন হয়নি। তিনি অতিরিক্ত রোগির নাম দিয়ে বিল তৈরির বিষয় বলেন এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খাবারের মানের ব্যাপারে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে আমি কথা বলেছি। তবে চেয়ারম্যানের কারণে সব কিছু করতে পারছি না বলে জানান তিনি।

"