মির্জাগঞ্জের শ্রীমন্ত নদী

তীর দখল ও ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মো. ফারুক খান, মির্জাগঞ্জ (পটুয়খালী)

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী লঞ্চঘাটসংলগ্ন শ্রীমন্ত নদীর তীর দখল ও ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর মো. ফারুক হোসেনের দিকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ইট ফেলে ভরাট করায় নদী ক্রমে ছোট হয়ে আসছে।

উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী লঞ্চঘাট এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে শ্রীমন্ত নদী। নদীর বড় একটা অংশ দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা (স’মিল) নির্মাণের কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ফারুক হোসেন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হরহামেশাই এমন কাজ করছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু লোককে ম্যানেজ করে একাধিক স্থানে সরকারি জমি দখল করে দোকান ঘর উত্তোলন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন ফারুক। এছাড়াও একই এলাকার জনৈক কাসেম তার নিজ নামে ৩ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে ঘর উত্তোলন করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু রাতের আঁধারে কাসেমসহ তার পরিবারের লোকজনকে বের করে দিয়ে কাসেমের জমি ও ঘর দখল করে বাস করছেন ফারুক হোসেন। নদী তীরবর্তী সরকারি জমি দখল করে যারা স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন তা উচ্ছেদের দাবি জানান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে নদী তীর ও সরকারি জমি দখলকারী মো. ফারুক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কাজ শুরু করেছিলাম। তবে অফিস কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতির জন্য লিখিত আবেদন করতে বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বেলায়েত হোসেন পাকা স্থাপনা নির্মাণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি (ফারুক) কিছু জমি লিজ নিয়েছেন। তবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ও নদীর তীর ভরাটের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি যে পরিমাণ জমি লিজ নিয়ে ভোগ-দখল করছেন তা মেপে বাকি সরকারি জমি উদ্ধার করা করা হবে। তবে নদীর তীর দখল ও ভরাট করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মনজুর হোসেন বলেন, অফিসের সার্ভেয়ার বেলায়েত হোসেনকে সরেজমিন পাঠানো হয়েছে। সত্যতা পেলে দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

"