বাগেরহাটে শত বছরের বৃদ্ধার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সহায়তা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামের বাসিন্দা সখিনা বিবি (১০৪)। এই বয়সেও ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারি সহায়তা। প্রতিবেশী বা অন্য কোথাও গিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করতে না পারলে ওইদিন অনাহারে দিনানিপাত করতে হয় তাকে।

চার সন্তানের জননী সখিনার স্বামী আফেল উদ্দিন মারা গেছেন ১৯৭৩ সালে। তারপর থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে পেটের ভাত জোগাতেন সখিনা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা শেষ হয় তার। সখিনার তিন ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আ. হামিদ শেখ খুলনায় শ্রমিকের কাজ করেন। মেজ ছেলে আব্বাস আলী শেখ মানসিক রোগী, এক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর আলী শেখ শহরে ভ্যান চালান। মাঝেমধ্যে মায়ের ভরণপোষণের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। বড় ছেলেও মাঝে মধ্যে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু মেয়েরও স্বামী মারা গেছে বেশ কয়েক বছর হলো। খুলনা শহরে মানুষের বাসায় কাজ করে পেট চলে তার। সন্তানরা কিছু টাকা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য বলে জানান সখিনা। জাতীয় পরিচয়পত্র নেই সে অজুহাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে কোন ধরনের সহযোগিতা করেনি কখনো। সখিনা বলেন, আমি ভিক্ষা করি না। ভিক্ষা করা পাপ। তবে হাঁটার পথে পরিচিতজনরা খুশি হয়ে কিছু দেয়, তাই দিয়ে চলি। বেশি হাঁটতে পারি না, মাথা ঘুরায়’।

সখিনা আরোও বলেন, সরকারি সাহায্য কোনো দিন পাইনি। সরকারতো অনেক দেয় শুনি। আর কবে পাব আমি। আমার কপালে নেই।

বৃদ্ধা সখিনা বিবি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যা দেবে তাতেই আমি খুশি। তয়, একখান ঘর আর একটু ভাওতা (ভাতা) পাইলে ভালো হয়।’

বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান লাল বলেন, সখিনা বিবি বহুদিন এলাকায় ছিলেন না। তার আইডি কার্ড নেই। তাই তাকে বিধবা ভাতা দেওয়া যায়নি। তবে পরিষদে গেলে তাকে চাল দেওয়া হয়।

ইউএনও কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, সখিনা বিবি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে খুলনায় ছিলেন। যে কারণে তার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। তার সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছি। দুই- একদিনের মধ্যে তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তিনি খেয়ে পরে ভালো থাকতে পারেন।

 

"