সোনারগাঁয়ে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মাছশূন্য খাল-বিল

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে মাছশূন্য হয়ে পড়েছে উপজেলার চারটি ইউনিয়ন। নদীতে ও খালে ফেলা বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি মিঠাপানির মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে এলাকার খাল ও জলাশয়গুলো। প্রাকৃতিক মাছের পাশাপাশি চাষ করা মাছের খামারগুলোতেও বিষাক্ত পানি ঢুকে মারা গেছে কয়েক লাখ টাকার মাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ পৌরসভার টিপরদী এলাকায় চৈতী কো¤পাজিটের বিষাক্ত বর্জ্যরে জন্য অনেকটাই দায়ী। এর আগে চৈতী ক¤েপাজিটের বিরুদ্ধে খামারিরা অভিযোগ করে কিছু ক্ষতিপূরণ পেলেও বর্তমানে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌরসভার টিপরদী এলাকায় চৈতী ক¤েপাজিট নির্মাণের পর থেকে এ কো¤পানির বিষাক্ত বর্জ্যরে পানি গোপন সুয়ারেজের মাধ্যমে বিভিন্ন খালে ছেড়ে দেয়। এ পানি খাল ও জলাশয় হয়ে মোগরাপাড়া, সনমান্দি ও পিরোজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ খালগুলো নষ্ট হয়ে মেঘনা ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদীতে গিয়ে পড়ছে। এ চারটি ইউনিয়নের অধিকাংশ খালের পালি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগসহ মাছশূন্য হয়ে পড়ে খাল-বিল, জলাশয় ও পুকুরগুলো। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চৈতীর বিষাক্ত পানি খাল হয়ে নিচু জলাশয়গুলোতে গিয়ে মিশে পানির রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কালো ও বিষাক্ত পানি ফসলি জমিতে মিশে জমির উর্বরাও নষ্ট করে দেয়। বর্ষা মৌসুমে বিষাক্ত পানি খাল-বিল হয়ে বাঁধাই করা পুকুরগুলোতে গিয়ে মিশে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ১০টি মাছ খামারের ভেতর বিষাক্ত পানি ঢুুকে মাছ মরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন মৎস্যচাষিরা। তারা জানান, চৈতী ক¤েপাজিটের বিষাক্ত কেমিকেলযুক্ত পানি তাদের মাছ খামারে ঢুকে মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়া চারটি ইউনিয়নের কয়েকটি বিল ও জলাশয়ের মাছ মরে গিয়ে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে বিল ও জলাশয়গুলো। এ ব্যাপারে পৌরসভার রাইজদিয়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার ১০ একর জমিতে মাছ চাষ করে আসছি। এবারের বর্ষা মৌসুমে বিষাক্ত পানি জোয়ারের পানির সঙ্গে মিশে জলাশয় হয়ে আমার পুকুরে ঢুকে ৫ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে। এর আগের বছরও একই ভাবে আমার পুকুরের মাছ মরে গিয়েছিল। সে সময় আমি সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ করেছিলাম। তৎকালীন ওসি মঞ্জুর কাদের চৈতী ক¤েপাজিট থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু টাকা আমাকে আদায় করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার ক্ষতিপূরণ আদায় করার কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। ফলে আমাকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সনমান্দি ইউনিয়নের জেলে মহাসিন মিয়া জানান, এলাকার খাল ও জলাশয়গুলো থেকে মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করেন অনেকেই। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে বর্ষাকালে চৈতী ক¤েপাজিটের পানি আমাদের এলাকার নিচু জমি খাল ও জলাশয়গুলোতে প্রবেশ করে সব মাছ নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে আমার এলাকার খালগুলো ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমেই জলাশয়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রজনন হয় কিন্তু বিষাক্ত পানির কারণে আমাদের খাল বিলগুলোতে সেই মাছের প্রজনন ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে চৈতী ক¤েপাজিটের এমজিএম মিজানুর রহমান জানান, বিষাক্ত পানি স্থায়ী ফিল্টারিংয়ের জন্য আমরা সরকারের কাছে দুই বছর সময় নিয়েছি। ইটিভি প্লানটি বড় আকারের স্থাপন করা হলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, বিষাক্ত পানির কারণে সোনারগাঁয়ের অনেক এলাকায় মিঠাপানির মাছের প্রজনন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শিকার করে তিনি বলেন, এসব কো¤পানি এত শক্তিশালী তাদের বিরুদ্ধে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তাছাড়া স্থানীয় অনেক মাছচাষিরা তাদের মাছ মরে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। আমি অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

 

"