আদমদীঘিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার আদমদীঘিতে রোপা-আমন ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা পোকার আক্রমণ থেকে অনেকটায় রক্ষা পাচ্ছেন। পাখির মাধ্যমে পোকা দমনের পদ্ধতির নাম পার্চিং। গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি জমিতে পুঁতে রাখলে বিভিন্ন ধরনের পাখি উড়ে এসে ওইসব ডাল বা কঞ্চিতে বসে পোকাগুলো ধরে খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষতিকর পোকাগুলো বিস্তার লাভ করতে পারে না। অপরদিকে কিটনাশকের খরচ কমে যাচ্ছে। ফলে জমিতে থাকা দেশী মাছগুলোও রক্ষা পাচ্ছে। সান্তাহার ব্লকে কৃষকদের এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করছেন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কামরুল আহসান কাঞ্চন।

তিনি জানান, প্রতিবিঘা ধানক্ষেতের মাঝে ৮-১০টি গাছের ডাল বা কঞ্চি পুঁতে রাখলে পাখিগুলো উড়ে এসে ডালগুলোপতে বসে সহজেই পোকাগুলো ধরে খেতে পারে। ধানক্ষেতের ক্ষতিকারক একটি মাজড়া পোকা ২০০টি ডিম পাড়ে। ফলে একটি মাজরা পোকা খেলে প্রায় ২০০টি পোকার আক্রমন থেকে ধান রক্ষা পায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার সান্তাহার ইউনিয়নে এক হাজার ৭১৫ হেক্টরের মধ্যে এক হাজার ১০০ হেক্টর জমি পার্চিং পদ্ধতির আওতায় রয়েছে। ফলে দেখা যায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকই পার্চিং পদ্ধতির আওতায় এসেছে। এ পদ্ধতির ফলে জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার তিন ভাগের দুই ভাগ কমে গেছে। কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় ইদানীং পাখির সংখ্যাও বেড়েছে, অপরদিকে কৃষকের খরচও কমেছে।

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, এই পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ক্ষতিকারক কিটনাশকের হাত থেকে জীববৈচিত্রও রক্ষা পাচ্ছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে গোটা উপজেলা পার্চিং পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

 

 

"