দিনাজপুরের পার্বতীপুর

হাত বাড়ালেই মাদক ধরাছোঁয়ার বাইরে হোতারা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আল মামুন মিলন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মাদকের নেশায় পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়। সেই সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতাও দিন দিন বেড়ে চলছে। থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মাদককে না বলুন এই নীতিতে অটল থেকে অভিযান চালিয়ে আটক ও মাদক উদ্ধার অব্যাহত থাকলেও এর ব্যবসা কিংবা চোরাচালান যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সংঘটিত হচ্ছে নতুন নতুন অপরাধ প্রবণতা। এসব কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের হাতে ধরা পড়লেও মূল হোতা থাকছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

সূত্র মতে, চার মাসে ২২টি মাদকের চোরাচালান আটকসহ ৪০ মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। গত বুধবার উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হয়বতপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ১৬০ পিস ইয়াবাসহ গোলাম রব্বানী ও তার স্ত্রী মোহসিনা খাতুনকে আটক করে পুলিশ। এর আগে ৩০ আগস্ট ১৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ রবিউল ইসলাকে আটক করে পুলিশ। গত ২৮ জুলাই রাতে মোমিনপুর ইউনিয়নের যশাই মোড়ে ১৩ পিস ইয়াবা, ১২০ বোতল ফেনসিডিল ও ১৬ পুরিয়া গাঁজাসহ আট মাদক চোরাচালানিকে আটক করা হয়। গত ২৫ আগস্ট ৫২ পিস ইয়াবা ও এক গ্রাম হেরোইনসহ মমিনুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। এদের প্রত্যেককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এদিকে রেলওয়ে পুলিশ বিভিন্ন মাদকসহ চোরাকারবারিদের আটক অব্যাহত রেখেছে।

এসব চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে নারী মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছেন। এদের অনেকেই চোরাকারবারিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এসব মাদকদ্রব্য অধিকাংশই ইয়াবা কিংবা ফেনসিডিল। পাশাপাশি আমদানি নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও তরল পানিও আসছে বিভিন্ন নামে হিলি ও আমবাড়ী সীমানা দিয়ে। এসব পণ্য দেদার বিক্রি হচ্ছে উপজেলা শহরসহ গ্রামের হাটবাজারগুলোতেও। এক শ্রেণির মাদকসেবী কাশের সিরাপ ইরামিন সিনামিন সহজলভ্য হওয়ায় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করে নেশায় আসক্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হলে পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, মদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সবসময় মাঠে আছি। এসব রোধে শহরবাসী মনে করেন মাদক নির্মূলে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রাখলে মাদকের ব্যবহার কমে আসবে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারসহ সমাজে মাদকের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর কথা জানান তারা।

"