রাজশাহীতে পাট প্রক্রিয়াজাত করতে বিড়ম্বনায় চাষিরা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী

রাজশাহী অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২৭১ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় পাট পঁচাতে দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এমতাবস্থায় পাটের ন্যর্য্য মূল্য নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন চাষীরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৪৬ হেক্টর। গত বছর পাট চাষ হয়েছিল ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্রীপুর এলাকার পাটচাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবার আড়াই বিঘা জামিতে পাট চাষ করেছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। কারণ, পাট জাগ দেওয়ার জন্য এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিতে পরিবহন ও শ্রমিক বেশি লাগছে, আবার শ্রমিকের মুজুরীও বেশি। ফলে এক বিঘা জমির পাট কাটা থেকে শুরু করে বাজারজাত করণের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। যে কারণেই বিক্রির পর লাভ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

একই শঙ্কার কথা জানিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাট চাষি আশরাফুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এবার রোগ বালাই না থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আগের মুজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজারজাত করতে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মহাসড়কের পাশে থাকা সরকারি ক্যানেলগুলো দখল করে মাছ চাষ করায় পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছেনা। ভবিষ্যতে এমন থাকলে পাট চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষকরা।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের থান্দার পাড়া এলাকার কৃষক রুস্তম আলী ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন এ এলাকার খালগুলোতে আমরা দীর্ঘ দিন ধরে পাট জাগ দিয়ে আসছি। এছাড়াও দীর্ঘ দিন ধরে এসব খালের পানি এলাকার কৃষকরা কৃষি কাজে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু এবার ক্ষমতাসীনরা এসব খালে অবৈধভাবে মাছ চাষ করায় পাট জাগ দিতে দিচ্ছেনা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসহ রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করে সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পাট শুকিয়ে জ্বালানীর জন্য খড়ি করতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে চললে আগামীতে পাটের আবাদের পরিমাণ কমে যাবে বলেও অভিমত প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলার বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী সেলিম রেজা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘খাল দখল করে মাছ চাষের কারণে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেনা এমন অভিযোগ পেয়েছি। কিন্ত প্রভাবশালীদের কাছ থেকে অবৈধ দখল মুক্ত করতে হলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যে কারণেই বিষয়টি এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হবে। এরপর ইউএনও স্যারের নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার পাটের চাষ বেশি হয়েছে। ইতিমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। সুখবর হচ্ছে এবার পাট চাষে রোগ বালায় লক্ষ্যনীয় ছিলনা। কিন্তু কিছুটা হতাশাগ্রস্থ এ অঞ্চলে কৃষকরা। আমার জানা মতে, এবার কৃষকদের চাহিদামত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাটজাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসন কৃষকদের স্বার্থে খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।’

"