গোপালগঞ্জে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের আয়ের উৎস বিলের শাপলা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও সদর উপজেলা বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এই পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় শাপলা ফুল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এসব এলাকার প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। বর্ষা মৌসুমে কৃষকের তেমন কোনো কাজ না থাকায় এলাকার অনেক কৃষক, বেকার ও অন্যান্য পেশার লোক বর্তমানে এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ এই শাপলা একদিকে যেমন সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে বর্ষকালে কাজ না থাকা বেকার মানুষের আয়ের পথ তৈরি করে দিচ্ছে। শাপলা ফুল সাধারণত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধান, পাট ও আমন ধান খেতে বেশি জন্মায়।

শাপলা বিক্রিকে কেন্দ্র করে কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথড়ে পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই এ বাজারে আশপাশের গ্রামসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাপলা সংগ্রহকারীরা জড়ো হন। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখর হয় এ বাজার। শাপলা ফুলের সাদা আভায় আচ্ছাদিত হয়ে যায় সড়কে বসা পুরো বাজার। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে জেলা সদরসহ পাশের যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় বিক্রি করে থাকেন। শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার সংকর কুমার বসু বলেন, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পাইকারি বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসে শাপলা। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নসিমনযোগে গোপালগঞ্জ সদরসহ যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়া নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ গাড়ি শাপলা এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় যায়।

শাপলা সংগ্রহকারী হীরা বিশ্বাস বলেন, আমি দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বর্ষাকালে শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। ভোরে বাজারে পাইকারি বিক্রি করে দেই।

গোপালগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. অমৃত লাল বিশ্বাস বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলার পাতায় রয়েছে ১ দশমিক ৩ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১ দশমিক ১ গ্রাম আঁশ, ৩ দশমিক ১ গ্রাম ক্যালোরি ও প্রোটিন, ৩১ দশমিক ৭ গ্রাম শর্করা, ৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ শাপলা সবজি হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। শাপলায় রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, যা আলুর চেয়ে সাত গুণ বেশি। তাই গ্রামে-গঞ্জে তরকারি হিসেবে শাপলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

"