বদরগঞ্জে কাশফুলের ঝাড়ু বিক্রি করে চলে আদিবাসীদের জীবিকা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নুরুন্নবী নুরু, বদরগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের বদরগঞ্জে আমনের চারা রোপণের পর থেকে মাঠে কোনো কাজকর্ম নেই বললেই চলে। আশেপাশর নদীনালা খালবিলগুলোতে মিলছে না শামুক-ঝিনুক ও দেশীয় জাতের মাছ। এমতাবস্থায় বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী-পুরুষরা। তবে অনেকে আবার চরাঞ্চলের কাশবন থেকে ফুল ঝাড়–র সরঞ্জাম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নে সরেজমিন দেখা গেছে, এসব জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষরা জীবন জীবিকার এক বাস্তব চিত্রপট। সেখানকার বৃহত্তর বড়পাড়া, পশ্চিমপাড়া, দিগ্যাপাড়া, ঘোনাপাড়া, শিমুলঝুড়ি, কামারপাড়া, তরফডাঙ্গা, লাচুপাড়া, বিলপাড়া ও কোদাল ধোয়া গ্রামের আশপাশের এলাকায় মাঠেঘাটে কোনো কাজকর্ম না থাকায় কর্মঠ নারী-পুরুষরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাই ঘরে বসে ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে অবসর সময় পার করতে করতে তাদের খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বছরের এই সময়ে আদিবাসীদের কাজ ও খাবার সংকট থাকায় তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করলেও বছরের অন্যান্য সময়ে কাজকর্মের ভিড়ে স্বাভাবিক অবস্থায় চলাফেরা করেন তারা। বর্তমান সময়ে কাজকর্মের অভাবে অনেকের বাড়ির রান্নাঘরের উনুনে ওঠে না দুই বেলা রান্নার হাঁড়ি। অনেকেই আবার প্রশাসনিক চাপের মুখে আদি পেশা চুয়ানি মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি তৈরি বন্ধ করে দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক নারীর হাতে কাজকর্ম ও ঘরে খাবার না থাকায় তারা অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। কেহ আবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে বাধ্য হয়ে মহাজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চড়া সুদের ওপর টাকা নিয়ে পরিবার-পরিজনকে সুখে রাখার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে লোহানীপাড়ার (পশ্চিমপাড়া) ‘আদিবাসী’ গ্রামের আঞ্জিলি মরমু ও হোতন মাই এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা সারা বছর ধরে জমিতে কামলা কৃষানের কাজ করি। আমন ধান রোপণের পর শ্রাবণ মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই এই অঞ্চলের যমুনেশ্বরী, চিকলী, ঘিরলই ও কাল নদীর চরাঞ্চলের কাশবাগান থেকে কাশ ফুলের গোড়ালি, বোঁটা সংগ্রহ করে ঘরে জমিয়ে রাখি। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর এলাকার তরি ও মালিরা এসে আমাদের কাছ থেকে অল্প দামে এগুলো কিনে নিয়ে যায়। প্রতিটি ঝাড়– বিক্রি করা হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। এমনকি আমরা নিজেরাও ঝাড়– তৈরি করে নিজের বাসাবাড়িতে ব্যবহার করি শহরের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও পাঠিয়ে দেই। তারা আরো বলেন, ঝাড়– তৈরি কিংবা বিক্রি করা আমাদের পেশা নয়। আমরা অবসর সময় কাটাতে প্রতিদিন ঝাড়ুর সরঞ্জাম সংগ্রহ করে চলেছি।

লোহানীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হাসান ডলু শাহ বলেন, আমি পরিষদ থেকে আমার অঞ্চলের ‘আদিবাসী’ জনগোষ্ঠীর জন্য নানামুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি। সেইসঙ্গে গরিব অসহায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ইউপির তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা কওে দিয়েছি। যাতে করে আমার এলাকার আদিবাসীরা কেনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

"