সোনাতলায় মৃৎশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ৩০ পরিবার

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের অদুরে বামুনিয়া পালপাড়া গ্রামের ৩০ পরিবারে প্রায় তিন শতাধিক মানুষের বসবাস। জীবিকা অর্জনে তাদের একমাত্র পেশা মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি। পরিবাবের বাবা-মায়ে সঙ্গে ছেলে-মেয়েরাও মৃৎশিল্পের কাজে সহায়তা করেন। আধুনিক যুগেও মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর রয়েছে বলে জানান ওই পাড়ার বাসিন্দারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে অবস্থিত বামুনিয়া পাল পাড়া। প্রায় দুইশ বছর ধরে ওই এলাকার ৩ শতাধিক মানুষ জীবন জীবিকার তাগিদে পৈত্রিক পেশা বেছে নিয়ে সংসার নামের ঘানি টেনে চলছে। আধুনিক যুগেও মাটির তৈরী এসব জিনিসপত্রের কদর কমেনি। সারা বছরি চলে এসব জিনিসপত্র।

ওই গ্রামের বাসিন্দা হরি হলধর পাল (৯০) জানায়, তার পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি ২ ছেলে ২ মেয়ে। জমি জমা নেই। বর্তমানে বসে বসে থাকি আর সন্তানদের আয় রোজগারের পথের নির্দেশনা দেই। এতে আয় হয় বেশ ভালো। সুমতি রানী (৭৫) জানায়, ভোটের সময় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও নির্বাচনের পর কোন জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজ খবর রাখেনা। শ্যামল পাল (৩৫) জানায়, তার পরিবারে ২ মেয়ে। একজন ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী আরেক জন সবেমাত্র জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তান। পৈত্রিক পেশা করে তার সংসার চলে।

শ্রী নিত্য নন্দন পাল (৬৫) জানায়, তার পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে। জমি জমা না থাকলেও তার পরিবার সুখী পরিবার। প্রতিদিন যে আয় রোজগার করে তা দিয়ে সংসার বেশ ভালো চলে। এছাড়াও বাপ দাদার পেশা থেকে আয় করে যৎ সামান্য জমিও ক্রয় করেছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, বাড়ির পার্শ্ববর্তী গজারিয়া বিল থেকে বিনা পয়সায় কাঁদা মাটি সংগ্রহ করে। সেই মাটি কেউ ভ্যান যোগে আবার কেউ নিজেই তুলে নিয়ে আসে। এতে তাদের পয়সা খরচা হয় না। ভ্যান যোগে ওই বিল থেকে মাটি আনতে তাদের ৭০/৮০ টাকা খরচা হয়। সেই মাটি দিয়ে তারা রকমারী হাঁড়ি-পাতিল, কলসী, চাড়ি, দই রাখার বাটি, কাসা, ফুলের টব, রিং স্লাবসহ খেলনা সামগ্রী তৈরি করে। বাসিন্দারা আরও জানায়, প্রতিদিন তারা গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলে তাদের হাতের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রির জন্য সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সারাদিন বিভিন্ন স্থানে এসব বিক্রি করে। এতে তাদের সংসার চলে বেশ ভালো।

নরেশ চন্দ্র পাল (৯৫) জানায়, এই গ্রামের বাসিন্দারা জনপ্রতিনিধি থেকে বিচ্ছিন্ন। সরকারী সাহায্য সহযোগিতা যা পায় তা যৎ সামান্য। ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় ওদের।

 

"