বিজয়নগর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

উদ্বোধনের ১০ মাসেও শুরু হয়নি সেবা দান

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মাইনুদ্দীন রুবেল, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যাবতীয় অবকাঠামো সম্পন্ন হওয়ার পরও জনবলের অভাবে আটকে আছে সেবা কার্যক্রম। এতে অন্য উপজেলার থেকে স্বাস্থ্য সেবায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন বিজয়নগরের মানুষ। জরুরি চিকিৎসার জন্য তারা ছুটছেন জেলা সদরসহ আশেপাশের উপজেলায়। গত বছরের ১লা নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজয়নগর ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্ভোধন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিতাস নদীর পূর্বাঞ্চালের ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০১০ সালে গঠন করা হয় বিজয়নগর উপজেলা। ওই বছরে ৩রা আগস্ট থেকে শুরু এর প্রশাসনিক কার্যক্রম। এরপর একে একে গড়ে উঠে উপজেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস ও দফতর। স্থানীয়দের সবচেয়ে দাবির মধ্যে ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন। ২০১৮ সালের শেষের দিকে সে দাবিও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে এখনো বিজয়নগর অঞ্চলের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা নিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলা এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৌড়ঝাপ করতে হচ্ছে। কবে নাগাদ এই দূর্ভোগ শেষ হবে সেই প্রশ্ন স্থানীয়দের।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু সরঞ্জামও আনা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা ও বর্হির বিভাগের কোন যন্ত্রপাতি এখনো আসেনি। ফলে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু আউটডোর সেবা চলমান আছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা (প.প) বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ডাক্তারগণের মধ্যে ৩ জন পালাক্রমে এই সেবা দিয়ে আসছেন জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অথচ এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র লক্ষ্য করে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী রোগী আসছেন, আর ফিরে যাচ্ছেন আউটডোর সেবা নিয়েই।

সেবা নিতে আসা পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের বিলকিস বেগম জানান, এখনো হাসপাতাল ভালভাবে চালু হয়নি। একজন ডাক্তার রোগী দেখে কিছু লেখে দেন। কিন্তু ঔষধ আর কোন পরীক্ষা দিলে দৌড়াতে হয় শহরে বা আখাউড়ায়। এতে আমাদের হয়রানি আরো বাড়েছে। মেরাসানী এলাকার মো. খোকন মিয়া বলেন, এলাকাবাসির দাবির মুখে আউটডোর চালু রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা চালু না হওয়ায় ইমার্জেন্সি রোগিরা অনেক বিপাকে পড়েন।

বুধন্তী গ্রাম থেকে আসা বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমি আমার ৪ মাসের শিশু বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি, তবে এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না থাকায় জেলা সদরে নিয়ে যেতে বলেছেন। তাই চলে যাচ্ছি।’ এখনো জরুরি রোগী নিয়ে পার্শ্ববর্তী আখাউড়া, মাধবপুর এবং জেলা সদরে যেতে বলে আক্ষেপ করেন সেবা নিতে আসা চম্পনগর এলাকা কবির হোসেন।

প.প. অফিসারদের মধ্য থেকে আউটডোর সেবা প্রদানকারী ৩ জন একজন ডা. আশরাফুল আলম। এ বিষয়ে প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, ‘এখানে নেই কোনো স্থায়ী জনবল। তাই আমরা তিনজন পালাক্রমে স্বাস্থ্য সেবা আউট ডোরের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছি। তবে কিছু সরঞ্জাম এনেছি, কিন্তু জরুরি বিভাগ চালু করার মতো কোন কিছু এখনো আসেনি।’ লোকবল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কিছু লোক চম্পকনগর বাজার কমিটি আর উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় কিছু সম্মানির মাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তি ডাক্তারদেরকে সহায়তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।’

জানতে চাইলে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের অভাবে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। গত আগস্ট মাসের সমন্বয় সভায়ও ডিসি স্যারকে বলেছি, যেন স্বাস্থ্য মন্ত্রলালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে লোকবল নিয়োগ দ্রুত শেষ করেন।’

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জস ডা. মো. শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাব-সেন্টার থেকে ৩ জন ডাক্তার এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করার জন্য লোকবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুমোদন শাখায় পাঠান হয়েছে। ফাইলটি যখন অনুমোদিত হবে তখনই আমরা লোকবল নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমি আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি মহোদয়কে জানিয়েছি। আশা করছি শীঘ্রই আমরা এ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করতে পারবো।’

 

"