চায়ের বাজারে দরপতন

মাধবপুরে লোকসানের মুখে ৫ বাগান

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

চায়ের বাজার দরপতনে হুমকির মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৫টি চা বাগান। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় চা। অপরদিকে ভারত থেকে অবৈধপথে ব্যাপক চা দেশে প্রবেশ করায় চা শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে মারাত্বক শংকা দেখা দিয়েছে। চায়ের দরপতনের কারনে উপজেলার ৫ টি চা বাগানের মালিক, ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিমত এ অবস্থা চলতে থাকলে চা শিল্প বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যাবে না। কারন চা বাগানগুলো ব্যাংক ঋন ও বাগানের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। চায়ের দরপতনের কারনে লোকসানের মধ্যে পরে বাগানগুলো ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চা বাগান বন্ধ হয়ে গেলে ৫ টি চা বাগানের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে। এছাড়া মালিকদের বিনিয়োগকরা মোটা অংকের টাকা ও ব্যাংক ঋন অনাদায়ি হয়ে পড়বে। সীমান্তে চেরাই পথে চা পাতা আসা রোধ করার লক্ষে সীমান্ত রক্ষিরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অনেক চা পাতা জব্দ করেছে। চা শ্রমিক, মালিক ও ব্যবস্থাপকদের অভিযোগ সরকার চা বাগানের প্রতি তেমন নজর দেয় না। এ কারনে চা বাগানগুলো বড় আর্থিক সংকটের কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাধবপুরে সরকার ও ব্যাক্তি মালিকানাধিন তেলিয়াপাড়া, সুরমা, জগদীশপুর, বৈকন্ঠপুর ও নয়াপাড়া চা বাগানের পাহাড়ি ভূমিতে বৃটিশ আমলে ৫ টি চা বাগান গড়ে ওঠে। ৫ টি চা বাগানে গড়পরতা ৩০ হাজার শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত রয়েছে। এর মধে বৈকন্ঠপুর চা বাগান তৃতীয় শ্রেণির রুগ্ন বাগান হিসাবে পরিচিত। গত ৪ বছর আগে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে বাগানটি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ৩ হাজার চা শ্রমিক পরিবার মারাত্বক মানবিক সংকটে পড়ে। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা করা হয়। নতুন মালিকানা বৈকন্ঠপুর চা বাগানটি আবার চালু হয়েছে। বৈকন্ঠপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক শাহজাহান মিয়া বলেন, এ বাগানটি এমনিতেই একটি রুগ্ন বাগান। কিন্তু এ বছর চায়ের দর খুব কম হওয়ায় আমরা বাগানটি পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুর্শেদ খানের মালিকানাধিন নয়াপাড়া চা বাগান। এ বাগানটি কারখানার যন্ত্রপাতির জটিলতায় ৩ মাস অবদি উৎপাদনে ছিল না। তাদের মালিকাধিন বাগানের উৎপাদিত কাঁচা পাতা অন্য একটি কারখানায় প্রক্রিয়া জাত করা হয়। মাস খানেক আগে নয়াপাড়া চা বাগানের কারখানা চালু হয়েছে।

বাগনের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহাগ আহাম্মেদ জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় চায়ের বাজার ঠিকিয়ে রাখা এখন কষ্টকর। এর মধ্যে ভারত থেকে সীমান্তে চোরাই পথে বিপুল পরিমান নি¤œ মানের চা পাতা দেশে ঢুকে পড়ায় দেশের অভ্যান্তরে দেশীয় চায়ের চাহিদা কমে গেছে। নিলাম বাজারে চা বাগানের পাইকারিক্রেতারা এখন চা কিনতে আগ্রহী নয়। এর প্রধান কারন হচ্ছে চোরাই চা পাতায় দেশের অভ্যান্তরিন বাজারে চাহিদা মিঠে গেছে। এখন শ্রমিকদের বেতন, রেশন, চিকিৎসাসহ সব কিছু মিলিয়ে চায়ের উৎপদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এক কেজি চা পাতা উৎপাদন করতে নি¤েœ খরচ হয় ২’শ টাকা। কিন্তু নিলামে এখন এক কেজি চায়ের দর উঠছে দেড়শ টাকার কিছু উপরে। অবৈধ পথে চা আসায় দেশের চায়ের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সুরমা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মিরন হোসেন জানান, সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার ২৩টি চা বাগানে ব্যবস্থাপকগন চা বাগানের কর্ম পরিকল্পনা বাজার দরের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়। জগদীশপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক বিদ্যূৎ কুমার রায় জানান, ভারত থেকে চোরাই পথে নি¤œ মানের চা এসে দেশের বাজার সয়লাভ হয়ে গেছে। এটি চা শিল্পের জন্য বড় একটি হুমকি ও বিপজ্জনক।

 

"