শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন

কার্যালয় না থাকায় পরিষদের কার্যক্রম চলে স্কুল ভবনে

উচ্চ আদালতের শুনানির অপেক্ষায় আটকে আছে ভবন নির্মাণ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলের শেষ উপজেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর। শ্যামনগর সদর থেকে ২০ কি.মি দূরে ৩৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাবুরা ইউনিয়ন। ১৫টি গ্রাম নিয়ে বেষ্টিত এ ইউনিয়নটি দ্বীপ ইউনিয়ন নামেই বেশী পরিচিত। এ ইউনিয়নের দক্ষিণে সুন্দরবন ও পূর্বে খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন ও পশ্চিমে খোলপেটুয়া নদী। ৪০ হাজার বাসিন্দাদের জীবনমানে উন্নয়নের কোন ছোয়া নেই এ এলাকায়। পাকা রাস্তার কোন চিহ্নই নেই এ ইউনিয়নে। দুর্যোগ আর বৃষ্টির সময় সীমাহিন দুর্ভোগ পোহাতে এ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। এমন কি এ ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদের কোন কার্যালয়ও নেই।

গাবুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ সৃষ্টির পর থেকেই চরমভাবে অবহেলিত গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ। উপজেলা সদর থেকে ২০ কি.মি দূরে অবস্থিত এ ইউনিয়ন। নদী পার হয়ে আসতে হয় এখানে। এছাড়া যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা না থাকায় এমপি ও সরকারি কর্মকর্তারা এখানে আসেন না। এক কথায় এখানে কোন উন্নয়ন নেই, দারুন অবহেলিত এখানকার বাসিন্দারা। জীবনমান উন্নয়নেও কোন পদক্ষেপ নেই কারো।

গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, দুর্ভোগের কোন অন্ত নেই। কোনটা রেখে কোনটা বলবো। প্রধান দুর্ভোগ এলাকায় চলাচল উপযোগী কোন রাস্তা নেই। বর্তমানে বর্ষার মৌসুমে রাস্তা দিয়ে চলাফেরার উপায় নেই। কোথাও কোথাও রাস্তার চিহ্ন আছে আবার কোথাও নেই। বাচ্ছারা যারা বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করে বর্তমানে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

আক্ষেপ আর এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন না থাকার কারণে চাঁদনীমুখা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্য্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমার বাবা যখন চেয়ারম্যান ছিলেন তখন গাবুরার ডুমুরিয়া এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য জোর চেষ্টা চালান। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহন ও দরপত্র আহব্বানও শেষ হয়। ভবন নির্মাণ হবে এমন মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলার পর সাবেক চেয়ারম্যান লেলিন ডুমুরিয়া এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা যাবে না মর্মে ২০১৪ সালে সাতক্ষীরা জজ আদালতে একটি মামলা করেন। লেলিন তার বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করতে চান। পরে সাতক্ষীরা জজ আদালত ভবন নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এ মামলার বিপক্ষে ২০১৫ সালে আমি উচ্চ আদালতে গিয়েছিলাম। উচ্চ আদালত নিন্ম আদালতের মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান ও পরবর্তীতে শুনানি করবেন বলে অবহিত করেন। তবে সেই শুনানি আজও হয়নি। আদালতে মামলা থাকার কারণে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি নির্মাণ আজও আটকে আছে।

তিনি আরো বলেন, যখন যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তখন তার সুবিধামত স্থানকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় তৈরী করে নেন। এতে করে চেয়ারমান পালাবদল হলেই পরিষদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসবাবপত্র স্থানান্তরিত করতে হয়। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের সন্ধান মেলে না।

 

 

"