আমতলীতে ৩ শিশুর সাহসী অভিযান

বান্ধবীদের নিয়ে নিজের বিয়ে রুখে দিল দ্বিতীয় শ্রেণির মনিকা

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে বান্ধবীদের নিয়ে নিজের বিয়ে রুখে দিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণি পড়–য়া মনিকা (১০)। গত শুক্রবার রাতে আমতলী পৌর শহরের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বরের মা ও কনের মাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে।

সাহসী মনিকা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের বাসুগী এলাকার রিকশা চালক জুয়েল প্যাদার মেয়ে ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্রী। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রিকশা চালক মো. তৌফিকের পুত্র পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুমনের (১৪) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহের কথা ছিল।

মনিকা ও তার বন্ধাবীদের বলে জানা যায়, নিজের বিয়ের কথা জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে যায় শিশু মনিকা। পরে বান্ধবী কনিকা ও ফারজানাকে নিয়ে পরামর্শ করে বিয়ে বন্ধ করার জন্য প্রথমে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যায়। কোর্ট বন্ধ দেখে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারা আসে আমতলী থানায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সব খুলে বললে তাৎক্ষণিক এসআই নাসরিন সুলতানাকে বিয়ে রোধে দায়িত্ব দেন তিনি। বর সুমন, বরের মা ডলি বেগম ও কণ্যার মা শাহানাজ ওরফে শাহিনুরকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ২০১৭ এর ৮ ধারা মোতাবেক বরের মা ডলি বেগমকে ২ হাজার টাকা ও কনের মা শাহানাজ ওরফে শাহিনুরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

সাহসী শিশু কণ্যা মনিকা জানান, আমি দুপুরে জানতে পারি শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার বিবাহ হবে। আমি বিকেলে বান্ধবী কনিকা ও ফারজানার সাথে কোর্টে যাই। সেখানে কাউকে না পেয়ে আমতলী থানায় এসে বড় স্যারকে সব খুলে বলি। আমি লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চাই।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, আমি সব ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়ে বর, বরের মা ও কনের মাকে আটক করে থানায় এনে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করি।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার বলেন, এর পূর্বে অনেক বাল্য বিবাহ রোধ করেছি। সার্বিক বিবেচনায় আমার নিকট এটি একটি হৃদয়বিদারক বাল্যবিয়ে। ধন্যবাদ জানাই সাহসী কণ্যা মনিকাকে। এত অল্প বয়সে নিজে নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, সাহসী কন্যা মনিকা যতদূর লেখাপড়া করতে চায় আমরা তার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবো।

"