পাবনা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে দুর্বিসহ জীবন

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

খালেকুজ্জামান পান্নু, পাবনা

পাবনা পৌর শহরের পৈলাণপুর-চক ছাতিয়ানী সড়কের পাশে ফেলা ময়লার ভাগাড়ের কারণে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ময়লার কারণে ডেঙ্গুবাহি এডিস মশা বৃদ্ধির হওয়ারও আশংকা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত অন্যত্র ভাগাড় অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পৌরবাসী। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

পাবনা শহর থেকে পৈলাণপুর হয়ে চকছাতিয়ানি সড়কের পাশে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এর সামনে তৈরি করা হয়েছে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশিসমস্যায় পড়েছে আশেপাশের স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তি ও সেবা প্রার্থীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, এখান দিয়ে যাওয়ার সময় গন্ধে যেন নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। নাকে কাপড় বেঁধে চলতে হয়। আবর্জনার কারণে ডেঙ্গুর আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৈলাণপুর-চকছাতিয়ানী সড়কের পাশেই শহরের বিভিন্ন জায়গা আনা ময়লা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। কোন কোন সময় তা সড়কের কিছু অংশ দখল করে পেলে। তাই মাঝে মাঝে পিক-আপ এ করে নিয়ে যায় অন্যত্র। তারপরও থেকে যায় অনেক ময়লা। আর এভাবেই দিনকে দিন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এর ফলে দুষিত হচ্ছে ওই এলাকার পরিবেশ। বাতাসে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। এর মধ্যেই নাকে রুমাল বেধে যাতায়াত করেন সরকারি-অসরকারি দপ্তরগুলোর কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা পৌরবাসী।

এদিকে পৈলাণপুর-চকছাতিয়ানী সড়কের আশপাশে ১০-১২টি সরকারি অধিদপ্তর রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। ভাগাড়ের সামনেই অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বামে পাবনা কালেক্টটরেট স্কুল এন্ড কলেজ। এরপরে যথাক্রমে আছে ম্যাজিস্ট্রেটদের আবাসিক ভবন, নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, র‌্যাব-১২ অফিস। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ডানে আছে পাউবোর অধিদফতর ও বাংলো, জেলা এলজিইডি, গণপূর্ত, পাসপোর্ট অফিস। কাছে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আশ্রম, মানুষিক হাসপাতালসহ আরো প্রতিষ্ঠান। ফলে ব্যস্ততম ওই সড়কে ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধ সহ্য করে প্রতিদিনই যাতায়াত করেন জনসাধারণ। এ বিষয়ে ময়লার ভাগাড়ের সামনে কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের গেটে কর্মরত আনসার সদস্য হাফিজ জানান, সারাদিন এখানে বসে ডিউটি করতে হয়। কি এক বিভৎস দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। নাকে রুমাল বেঁধেও ডিউটি করা কঠিন। তারপর ডেঙ্গুর কথা শুনে আতঙ্কে থাকি সবসময়। ওই ময়লার ভাগাড়ের পাশেই অপরিস্কার ড্রেন রয়েছে।

ইনিস্টিটিউটের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, অফিসে তো গন্ধ সহ্য করে বসে থাকি। কিন্তু বিভিন্ন সেমিনার, সভা হলে লোকজন বসে থাকতে বিরক্ত বোধ করেন। দ্রুত এটাকে অন্যত্র অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানান তিনি।

ভাগাড়ের পাশে পাবনা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহমুদুল হক জানান, ময়লা ফেলে রাখার কারণে আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জানালা দরজা আটকিয়ে ক্লাস নিতে হয়। অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীরা বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ নিয়ে পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পূর্বের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন স্যারের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছি। কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।

জানতে চাইলে অভিযোগ স্বীকার পাবনা পৌর সচিব সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, এটা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি অপসারণ করা হবে। ওখানে একটা ঘর ছিল ইতমধ্যে সেটাকে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হবে তার নিশ্চত করতে পারেননি তিনি।

 

"