চিরাপাড়া এমই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৪ বছরেও শেষ হয়নি স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ

প্রকাশ | ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

ঠিকাদারের গাফিলতির কারনে গত চার বছরেও শেষ হয়নি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৩১নং চিরাপাড়া এম.ই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার ভবন নির্মাণের কাজ। স্কুল ভবনের কাজ শেষ না হলেও এক বছর পূর্বে তা উদ্ধোধন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ভাড়া করা বসত বাড়িতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। জানা যায়, জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর ওই বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেন। ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬১ টাকায় নির্মাণের জন্য ‘এস.এস.এই জয়েন্ট ভেনটার’ নামের একটি ঠিকানাদারী প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণের কাজ পায়। প্রতিষ্ঠানটি ভবন নির্মানের জন্য কাউখালী উপজেলার সঞ্জিত কুমার সাহার সঙ্গে চুক্তি পত্র করেন। চুক্তি মোতাবেক ঠিকাদারের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে সঞ্জিত কুমার সাহা বিদ্যালয়টির ভবনের কাজ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে কাজ শুরু করেন। ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা গত ৪ বছরেও শেষ হয়নি। এদিকে কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয় ভবনটি উদ্ধোধন করেন। উদ্ধোধনের এক বছর পরেও নিজ ভবনে যেতে পারেনি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে পায়ে হেটে ভাড়া করা একটি বাড়িতে স্থাপিত অস্থায়ী ভবনে গিয়ে লেখাপড়া করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপু রানী হালদার বলেন, তারা ৪ বছর ধরে ভাড়া করা জরাজীর্ণ বাড়িতে ১৪০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান করাচ্ছেন। ভাড়া করা বাড়িটিতে প্রয়োজনীয় কক্ষ না থাকার কারণে দুইটি শ্রেণির পাঠদান একটি কক্ষে করতে হচ্ছে।

বিদ্যলয়টি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সীমানা প্রাচীর আংশিক তৈরি হয়েছে। ভবনের বাহিরের কাজ শেষ করে রংয়ের কাজও করা হয়েছে। তবে ভবনটির ভিতরের দরজা জানালা টয়লেটসহ মেঝের কোন কাজ করা হয়নি। ভবনের কাজ সমাপ্ত করার আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা ও ফ্লোরে ফাটল ধরায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা আতঙ্কে আছে।

ঠিকাদরের স্থানীয় প্রতিনিধি সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টির কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টির কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের নিকট ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী হরসিত সাহা বলেন, এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ শেষ করার জন্য অনেকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ঠিকাদার কাজটি সম্পূর্ণ করেননি। গত সোমবার, ১৯ আগস্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও তার স্থানীয় প্রতিনিধিকে আগামি এক মাসের মধ্যে ভবনের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

"