জনজীবনে বন্যার প্রভাব

কবরস্থানে ঘর তুলে বসবাস!

প্রকাশ | ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

চলতি বছরে বন্যার প্রভাবে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার। মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে বাধ্য হয়ে কবরস্থানকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন অনেকেই। কবরস্থানের উপর ঘর তুলে বসবাস শুরু করছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক হতভাগ্য পরিবার।

জানা যায়, এবারের বন্যায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় ৬নং খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী গ্রামের একটি বৃহৎ অংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। আবাদি জমিজমা, ঘর-বাড়িসহ সব হারিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে এই গ্রামেরই একটি বৃহৎ অংশ কবরস্থানের উপর বসবাস শুরু করেছেন। শুধু বসবাসই নয় কবরের আশপাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী হাট-বাজারও।

কবরস্থানে বসবাসকারি বয়োবৃদ্ধ আতর আলী জানায়, প্রয়োজন আইন মানে না। ধর্মীয় বিধান বহির্ভূত হলেও কোন পথ না পেয়ে কবরস্থানেই কোর রকমে ঘর তুুলে বসবাস করে আসছি। অন্য উপায় না থাকায় এলাকার ধর্মপ্রান ব্যাক্তিরাও এ কাজ মেনে নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জানায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবারো এই গ্রামে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকার গ্রহন করলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই মসজিদ প্রাঙন, অপরের পরিত্যাক্ত জায়গা ও ভয়াল যমুনার তীরবর্তী কবরস্থানে বসবাস শুরু করেছে অনেকেই।

তারা আরো জানান, অতিসম্প্রতি সরকারি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংস্থা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা সহায়তা প্রদান করলেও পূনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। যার ফলে অমানবিক জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার লোকজন। যমুনার তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারিরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। এখানে ছোটখাট দুর্ঘটনা একন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ভয়াল যমুনার কড়ালগ্রাসে চৌহালি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ উপজেলা চত্তর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ মাঠ ও আবাদি জমিজমা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ইউএনও কার্যালয়, থানাসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তার কার্যালয়গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্থান করে নিয়েছে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। এতে একদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসিসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ। অপর দিকে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে হুমকির মুখে।

 

"