পলাশে কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দিন দিন কমতে শুরু করেছে আবাদি জমির পরিমাণ। আবাদি জমির মধ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটভাটা, রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি, শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে আবাদি জমিতে কৃষি পণ্য উৎপাদনে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাপক খাদ্য সংকটে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। শুধু তাই নয়, চড়া দামে বাহিরের দেশগুলো থেকেও খাদ্য আমদানী করতে হবে বলেও আশঙ্কা কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, পলাশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৬ হাজার ২৫৭ হেক্টর। এর মধ্যে এক ফসলি জমির পরিমাণ ১ হাজার ২২৫ হেক্টর, দুই ফসলি জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর ও তিন ফসলি জমির পরিমাণ ১ হাজার ৭৩২ হেক্টর। উপজেলার তিন চতুথাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। এ তিন চতুথাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষি বিপনণ পক্রিয়ার সফঙ্গ সম্পৃক্ত থেকে। উপজেলার জনসংখ্যা মতে মোট খাদ্য শস্যর চাহিদা গড়ে ৪০ হাজার ৪৫৯ মেট্রিক টন, কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ২৩ হাজার ৮৬৩ মেট্রিক টন খাদ্য। যার ফলে প্রতিবছর খাদ্য ঘাটতি দেখা দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন, বসতি ও কল-কারখানা, ইটভাটা তৈরি এবং কৃষি জমি আইন না মানায় কৃষি জমি ভরাট হচ্ছে। সে সঙ্গে বাড়ছে ইচ্ছে মত জমির ব্যবহার। ফলে গত ১৩ বছরে কৃষি জমির পরিমাণ কমেছে ১৫ শতাংশ। এতে করে দিনেদিনে কৃষকরা কৃষিকাজ ছেড়ে বিচ্ছিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

জানা যায়, প্রস্তাবিত কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে কৃষি জমিতে আবাসন, শিল্প কারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোনো রকম অকৃষি স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। জমি যে ধরণেই হোক না কেনো তা কৃষি জমি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। দেশের যে কোনো স্থানের কৃষি জমি এ আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত হবে। যা কোনো ভাবেই ব্যবহারের পরির্বতন আনা যাবে না। আইনে বিচার ও দ- হিসেবে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারী বা সহায়তাকারী অনুর্ধ দুই বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দ-েদ-িত হবে। অথচ এসব নিয়মনিতীর তোয়াক্কাই না করে উপজেলার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও মালিকগন তাদের ব্যবসার সুবিদার জন্য প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানের সীমানা বাড়ানোসহ কম মূল্যে গ্রামের কৃষি জমিগুলো দখলে নিচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন জমি কমার মূল কারণ। দ্রুত কৃষি জমি রক্ষায় সমন্বিত নতিমালা গ্রহণ না করলে সামনে ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিত ভাবে কৃষি জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে। এছাড়া কৃষি জমি কম মূল্যে পাওয়ায় জমিতে ইটভাটা তৈরিসহ বিভিন্ন অকৃষি স্থাপনার জন্য প্রতিবছর এক হেক্টর করে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্ন ভাবে বাড়ি নির্মাণ না করে গ্রাম গুলোকে ছোট ছোট শহরে পরিণত করতে হবে। বহুতল ভবনে একাধিক পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরী। এছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলো প্রপারের জমি রেখে কম মূল্যে কৃষি জমি কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে দেশে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিবে। যার ফলে চড়া দামে বাহিরের দেশগুলো থেকে খাদ্য আমদানী করতে হবে।

 

"