ঝালকাঠির সুগন্ধায় বালু উত্তোলন, ভাঙছে তীর

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

রাজু খান, ঝালকাঠি

কোন ভাবেই যেন ঠেকানো যাচ্ছেন না ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রায় প্রতিদিনই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী কয়েকটি মহল। ফলে ওইসব নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন লেগেই আছে। স্থানীয় ওই প্রভাবশালীদের তৎপরতায় নদীর পলি মাটি উত্তোলন বন্ধ ও নদী শাসন এবং ভাঙ্গনরোধে জেলা প্রশাসনের সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যাচ্ছে। জড়িতদের একাধিকবার আর্থিক জরিমানা হলেও নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন থামানো যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন তীব্রতা ধারণ করেছে। দিয়াকুল, দেউরী, মাটিভাঙা ও কালিজিরা পয়েন্টে থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ক্রমাগত ভাঙনে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। বালু খেকো চক্র নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে লম্বা পাইপ দিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দুরে তাদের গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বালু। এতে নদীর অতি গুরুত্বপূর্ণ পলি মাটি কমে যাচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের ইজারা ছাড়াই বালু মহল অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের গুটি কয়েক কর্মচারীকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে সুগন্ধা নদীতে চলছে বালু খেকো সিন্ডিকেট। বর্তমানে এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জেলার কিছু কথিত সাংবাদিক। চক্রটি রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে চলমান বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। দেউরী এলাকার বাসিন্দা রহমান গাজী জানান, নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করায় বর্ষাকালে নদী ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, সুগন্ধা নদীতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় ক্রমাগত ভাঙছে নদীর দু-পাশ। অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীর গতিপথ ঠিক থাকে না। তাই ইজারা বিহীন বালু খেকোদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দাবি করেন এ জনপ্রতিনিধি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী জানান, সুগন্ধা নদীতে ইজারা বিহীন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"