বগুড়ায় খাসির চামড়ার দাম এক কাপ চায়ের সমান

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

ঈদের দিন বগুড়া শহরের সাতমাথায় এক কাপ লাল চা ১০ টাকায় বিক্রি হলেও ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ টাকায়! অনেকে আবার গরু-খাসির সঙ্গে ফ্রি দিয়েছেন বকরির চামড়া। দাম কম থাকায় বিক্রি না করে অনেকেই মাদরাসায় দান করেছেন কোরবানির পশুর চামড়া। এছাড়া মহিষ, গাভীর চামড়া চামড়া বিক্রি হয় ১২০Ñ১৭০ টাকা দরে। যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় একেবারেই কম। এতে জেলার কয়েকশ মৌসুমী ও খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী (ফড়িয়া) বিপুল অংকের টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

গত বছর বগুড়ায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে যে চামড়া হাজার টাকার চামড়া বিক্রি হয়েছে, এবার তা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০০ টাকায়। আর খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা করে।

সরকারিভাবে চামড়ার দাম বেঁধে দেয়া হলেও বগুড়ার ব্যাবসায়িরা সেটা মানেনি। এ বছর জেলা শহরের গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বগুড়ার চমড়ার বাজার হিসেবে খ্যাত জেলা শহরে বাদুরতলা এলাকা ঘুরে জানা গেছে, জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায় থেকে সর্বত্র ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে। আর গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

জেলা চামড়া মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের কোরবানির ঈদে যে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৬০০-১৮০০ টাকা ধরে। ২০১৬ সালেও এই চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৩০০-১৪০০ টাকায়। কিন্তু সেই আকারের চামড়া ২০১৮ সালের বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সে বছর গরুর চামড়া সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকায়। কিন্তু এ বছর দেড় হাজার টাকা মূল্যের কোরবানী পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকায়। ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে কোথাও।

ব্যবসায়িরা জানান, দুপুরের পর সময় যতই গড়েছে কোরবানীর পশু চামড়ার দাম ততই কমেছে। সন্ধ্যায় জেলায় চামড়া কেনাবেচা হয়েছে ১০০ টাকায়। আর খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে। দুপুরে খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা করে।

থানা মোড়ে চামড়া ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম, রফিকুল জানালেন, তারা ২০০-৭০০ টাকায় গরু এবং ৫ থেকে ৪০ টাকায় খাসির চামড়া কিনেছেন। জবেদ আলী নামের চামড়া ক্রেতা জানান, এবার গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ১০ টাকা করে কেনা হচ্ছে।

বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার আতাউর রহমান জানান, দেড় লাখ টাকায় ষাঁড়ের চামড়াটি বিক্রি করেছেন ৫০০ টাকায়। গত বছর এই মানের চামড়া ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

আক্ষেপ করে কোরবানি দাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক কাপ দুধ চার দাম ১০ টাকা আর একটি খাসির চামড়া কিনছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে।

বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া, বড়গোলা, সাতমাথা, চামড়া পট্টি, চকসুত্রাপুর, বাদুড়তলা, চকযাদু ক্রসলেন, থানা মোড়, চেলোপাড়া, শহরের বাহিরে কলোনী, বনানী, মাটিডালি, শাকপালাসহ কমপক্ষে একশতটি স্পটে কোরবানীর ঈদের দিন চামড়া সংগ্রহ করেছে চামড়া ব্যবসায়িরা। উপজেলা পর্যায় থেকে নেওয়া চামড়া বিক্রি হয়েছে শহরের চামড়ার চেয়ে আরো কম দামে। তবে এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর চামড়া কেনাকেচা হয়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা করে। কোন কোন স্থানে খাসির চামড়া নেওয়ার যেন ক্রেতাই ছিল না।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক আব্দুুল মতিন সরকার জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে ঈদের আগে পাওনা টাকা একাধিকবার চাইলেও পাওয়া যায়নি। বগুড়া ও শেরপুর উপজেলার চামড়া মালিকদের মোট পাওনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এ বছর ঢাকার চামড়া মালিকরা কোন টাকা দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। তারপরও বগুড়ার ক্ষুদ্র ও চামড়া ব্যবসায়িরা এখনো বকেয়া টাকা পায় নি।

 

"