পলাশে সম্পত্তি বিক্রির পরও জবর দখলের অভিযোগ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নরসিংদীর পলাশে নিজের সম্পত্তি প্রবাসীর কাছে বিক্রি করার পরও সেই সম্পত্তি জবর দখলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। নিজের কেনা সম্পত্তিতে না যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত ওই প্রবাসীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এ বিষয়ে ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো বিচার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ জার্মানি প্রবাসী সফর উদ্দিনের পরিবার। উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের সান্তানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে ডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বিটাকের দাবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে কেনা সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সফর উদ্দিনকে বলা হয়েছে। যদিও ওই প্রবাসীর পরিবার তা নাকচ করে দিয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে সফর উদ্দিনের কেনা সম্পত্তির কাগজপত্র দেখে ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ডাঙ্গা ইউনিয়নের সান্তানপাড়া গ্রামের মৃত শফি উদ্দিনের ছেলে সভাপতি মতিউর রহমান বিটাকের কাছ থেকে জার্মানি প্রবাসী সফর উদ্দিন ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে সাফ কবলা দলিল মূলে আড়াই শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন।

এ বিষয়ে সফর উদ্দিনের স্ত্রী সালমা আক্তার রিনা জানান, স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমরা আমাদের সম্পত্তিতে গেলেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিটাক তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেন। কিছুদিন আগে জোর করে আমাদের সম্পত্তিতে টিনের বেড়াও দিয়েছে।

জমি বিক্রি করার সত্যতা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান বিটাক জানান, জমি বিক্রির পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সালিস বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে আমি ৭ লাখ টাকা দিয়ে দিলে সফর উদ্দিন আমার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু বিক্রি করা আড়াই শতাংশ সম্পত্তিতে টিনের বেড়া দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের উল হাই জানান, প্রবাসী সফর উদ্দিন ও বিটাকের জমি সংক্রান্ত ঝামেলাটি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে নিয়েই বসেছিলাম।

সেখানে সফর উদ্দিনকে বিটাক ৭ লাখ টাকা ফিরিয়ে দেবেন আর সফর উদ্দিন বিটাককে তার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবে এমন একটি রায়ও দিয়েছিলাম। পরে বিটাক টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দুই মাসের সময় নেন। আর এই সময়ের ভেতর সফর উদ্দিন বিদেশ চলে যাওয়ায় জমি সংক্রান্ত তাদের ঝামেলাটি আর শেষ করা সম্ভব হয়নি।

 

"