এক টন ওজনের ‘বাদশাহ’ দাম ১০ লাখ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

মৌলভীবাজার-কুলাউড়া প্রতিনিধি

লন্ডন প্রবাসী আবদুল খালেদ নূর শখের বসে শুরু করেন বিভিন্ন প্রজাতির গরু ও ছাগলের খামার। তার খামারে আমেরিকান জাতের একটি গরুর নাম রেখেছেন ‘বাদশাহ’। ওজন এক টন। ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য গরুটির দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা। এদিকে, খালেদের বাড়িতে ‘বাদশাহকে’ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। উপযুক্ত দাম পেলেই তিনি গরুটি বিক্রি করবেন বলে জানান। বাদশাহ এখন পর্যন্ত জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ওজনের গরু বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হাসামপুরের আবদুল খালেদ নুর ২২টি বলদ ও ২০টি ছাগল নিয়ে শুরু করেন তার শখের খামার। লক্ষ্য ছিল আমিষের অভাব পূরণ করা, পাশাপাশি এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান করা। তার খামারের বয়স ১০ মাস। বর্তমানে তার খামারে চার থেকে ছয়জন লোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

খামারের দেখভালকারী আতিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ৩০ লাখ টাকার পুঁজি দিয়ে খামার শুরু করলেও এখন তার (খালেদ) খামারের সাতটি গরু বিক্রি করলে এর প্রায় দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যাবে। তাও খরচ বাদে। বাকিগুলো লাভেই থাকবে। আতিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাদশাহ নামের গরুটির দাম ১০ লাখ চাওয়া হচ্ছে, তবে ৮ লাখ হলে বিক্রি করবেন।

ওই খামারে গরুর জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রাহমা, নেপালি, শাহীওয়াল, সিন্ধি ও দেশীয়। গরুর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগলও মোটাতাজা করছেন। ছাগলের মধ্যে তোতাপুরি, যমুনাপাড়ি, হরিয়ানা, বরবরি ও দেশীয় প্রজাতির ব্লাকবেঙ্গল রয়েছে। খামারে পালিত গরুগুলোর খাদ্যের তালিকায় রয়েছে উন্নত জাতের ঘাস, খৈল, ভট্টা, গম, চালের গুড়ো ও ভুষি।

স্থানীয় আবদুল মুহিত বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ঘাস, খৈল, ভুষি, ভাতের ফেন ইত্যাদি খাইয়েও যে পশু মোটাতাজা করা যায় এটি তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় যুবক আশফাকুর রহমান জয়নাল বলেন, খালেদ মিয়ার খামার দেখে তিনি মুগ্ধ। তিনি বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেই একটি খামার করার চিন্তা করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন ডা. গোলাম মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, কেমিকেল ব্যবহার না করেও যে সফলভাবে গরু ও ছাগল মোটাতাজা করা যায় এটি তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ফার্মে বাদশাহ নামের একটি বলদ রয়েছে, যার ওজন এক টন হবে। তার জানামতে জেলায় এতবড় গরু আর নেই।

খামার মালিক আবদুল খালেদ নুর বলেন, প্রথমত শখ থেকে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য খামারটি গড়ে তুলেছি। প্রথমে চার থেকে পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন খামারে ২২টি গরু ও ২০টি ছাগল রয়েছে। ভবিষ্যতে খামারটি আরো বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানান তিনি।

"