বগুড়া, কক্সবাজার ও গোপালগঞ্জে দেড় শতাধিক পশুর হাট

হাটে হাটে সতর্কতা বেড়েছে কেনাবেচা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঈদুল আজহার আগ মুহূর্তে জমে ওঠছে বগুড়া ও কক্সবাজারের পশুর হাটগুলো। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার দেশি জাতের গরুর সমাগম বেশি। তবে কক্সবাজারের বিভিন্ন পশুর হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকলেও মহিষের আমদানি মোটামুটি ছিল। মিয়ানরমার থেকেও প্রচুর গরু আমদানি করা হয়েছে। জেলার ৫২টি কোরবানির পশুর হাটে দিন দিন বাড়ছে পশু কেনাবেচা। তবে দাম কমেনি। খামারি ও কৃষকরা বিভিন্ন পশুর হাটে যাচ্ছেন কোরবানির গরু-ছাগল নিয়ে।

এদিকে বগুড়া জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কোরবানির পশুর হাটের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ জাল টাকা রোধে বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন। পাশাপাশি অসুস্থ গরু শনাক্ত করতে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জেলার ৬৪ হাটে পশু চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

এছাড়া গোপালগঞ্জে দেশি গরুর পর্যাপ্ত রয়েছে। চাহিদার চেয়েও ২ হাজার গরু অতিরিক্ত প্রস্তুত করেছে জেলার খামারিরা। জেলায় ছোট-বড় অর্ধশত হাটে পশু বিক্রির জন্য ৪ হাজারেরও বেশি পশু মোটাতাজা করে প্রস্তুত করেছেন।

বগুড়া প্রতিনিধি আব্দুস সালাম বাবু জানান, বগুড়া জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় অর্ধশতাধিক পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া সদরেই রয়েছে সাতটি হাট। এছাড়া জেলার বড় পশুর হাটের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় চারটি, সোনাতলার উপজেলায় একটি, গাবতলী উপজেলায় পাঁচটি, সারিয়াকান্দিতে তিনটি, ধুনটে দুটি, শেরপুরে একটি, নন্দীগ্রামে চারটি, আদমদীঘিতে চারটি, দুপচাচিয়ায় ১১টি ও শাজাহানপুর উপজেলায় দুটি হাট বসেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, কোরবানি সামনে রেখে বগুড়ায় বিভিন্ন পশুর হাটে ৬৪টি ভ্যাটেনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পশুর হাটে যেন কোনো অসুস্থ পশুকেও বিক্রি করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক জানান, সদর উপজেলার হাটগুলোতে ব্যাপক দেশি জাতের গরু আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বিপিএম (বার) জানান, বগুড়ায় কোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাটে জাল নোট শনাক্তের মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী শাহীন জানান, জেলার খরুলিয়া বাজার, ঈদগাঁওবাজার, মরিচ্যাবাজার, রামুবাজার, কলঘরবাজার, টেকনাফ, উখিয়াবাজার, গর্জনিয়াবাজার এবং চকরিয়ার গরু বাজারসহ ছোট-বড় অন্তত ৫২টি পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটের মধ্যে আয়তন ও বেচাকেনায় সদরের খরুলিয়াবাজার সবচেয়ে বৃহৎ।

বিভিন্ন হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, কক্সবাজারে এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার বেশি কোরবানির পশু থাকায় দাম নাগালের বাইরে চলে যাবে না। কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় খরুলিয়াবাজারের গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, মাংসের বাজার হিসেবে কোরবানির গরুর দাম এখনো কমই রয়েছে। ছোট আকৃতির গরু এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরুর দাম ৭০ থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে এবং বড় গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

কক্সবাজার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম জানান, কক্সবাজারে চলতি বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫ হাজার। স্থানীয় পর্যায়ে পশুর মজুদ ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি হতে পারে। জেলার হাটগুলোতে পশুর রোগ বালাই দেখতে ১৬টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, দেশীয় পশুর বাজার ধরে রাখতে মিয়ানমারের সব প্রকার গবাদি পশু আমদানি ৩ আগস্ট থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৩ আগস্ট থেকেই টেকনাফ করিডোর দিয়ে কোনো পশু বাংলাদেশে আসেনি। এতে করে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রি করতে পারবেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি দুলাল বিশ্বাস জানান, গোপালগঞ্জে চাহিদার চেয়েও ২ হাজার গরু অতিরিক্ত প্রস্তুত করেছে জেলার খামারীরা। জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে এ বছর গোপালগঞ্জে প্রায় ৩৩ হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার ৪ হাজারেরও বেশি খামারি প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করে প্রস্তুত করেছে।

খামারিরাও মনে করছেন সম্পূর্ণ স্টেরয়েডমুক্ত তাদের এসব গরু বিক্রী করে এবছর তারা ভালো লাভবান হবেন। জেলায় ছোট-বড় অর্ধশত হাট বসেছে বলে তারা জানান। এদিকে গোপালগঞ্জ শহরের শিশুপার্ক-সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া কোরবানির পশুর হাটে সর্বনি¤œ ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত গরুর দাম ওঠতে দেখা গেছে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আজিজ আল মামুন বলেন, জেলার অধিকাংশই নি¤œাঞ্চল বিল এলাকা। এখানে বর্ষার আগ পর্যন্ত মাঠে-বিলে প্রচুর পরিমাণে ঘাস জন্মে। এ থেকেই ছয় থেকে সাত মাসব্যাপী গরু পর্যাপ্ত খাবার পায়। এজন্য প্রতি বছরই এ পেশায় লোক বাড়ছে এবং বিল এলাকায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তণ ঘটছে।

"