শেরপুরে বাড়ছে পাহাড়ি এলাকার গরুর চাহিদা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে গরু পালন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় গোচারণ ভূমি ও প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রাচুর্য থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে গবাদি পশু পালনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এদিকে প্রাকৃতিক উপায়ে পালিত কোরবানির পশুর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। ফলে ক্রেতারা ভিড় করছেন এই পাহাড়ি এলাকার গরু কিনতে।

ঝিনাইগাতীর বাঁকাকুড়া, ডেফলাই, ভালুকা, গান্ধিগাঁও, ফুলহারি ও গজনীসহ এর আশপাশের এলাকার অধিকাংশ হতদরিদ্র মানুষ এখন গরু পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। এক সময় গারো পাহাড়ি এলাকায় শাল-গজারিসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা নানা প্রকারের বনজ গাছের অরণ্য ছিল। কালক্রমে এ এলাকা এখন বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। তাই দিগন্তজুড়ে প্রকৃতিক গো-খাদ্যে ভরপুর মাঠে গরু চড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে এলাকার হতদরিদ্র মানুষ। এর মধ্যে গরু পালন করে লাভ হওয়ায় সীমান্ত এলাকাজুড়ে শত শত মানুষ এখন গরু পালন করছে। সর্বাধিক ৬০ থেকে ৭০টি গরু পালন করছে কোনো কোনো পরিবার।

গারো পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর মালিক বা রাখালরা প্রতিদিন সকালে গ্রাম থেকে পাহাড়ি জঙ্গলে এবং খোলা মাঠে গরু চড়িয়ে আশপাশে বিশ্রাম নেয়। কেউ বা পাহাড়ের কাছাকাছি বাড়ি-ঘর যাদের তারা নিজেদের অন্যান্য কাজ সেরে সন্ধ্যার আগে আবারও মাঠ থেকে গরু নিয়ে এসে তাদের গোয়াল ঘরে তুলে। এভাবেই তারা প্রতিদিন কোনো রকম বাড়তি খাদ্য না ব্যবহার করেই গরু পালন করে আসছে। পাহাড়ে গরু যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্যে অনেক গরুর গলায় বিশেষ ধরনের ঘণ্টা বেঁধে দেওয়া হয়।

গরুর ক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ওষুধের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করা হলেও শেরপুরের এই সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় গরু পালন করা হয় শতভাগ প্রাকৃতিক ঘাস-লতাপাতা খাইয়ে। বন-বাদরের নানা প্রকারের লতা-পাতা ও ঘাস খেয়ে গরু এমনিতেই স্বাস্থ্যবান হয়। ফলে এ গরুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে।

স্থানীয় গরু পালনকারীরা জানায়, প্রতি বছর ঈদের আগে ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে আমাদের এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে যায়। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুস সালেহিন জানান, পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পরিমাণের প্রকৃতিক ঘাস ও লতা-পাতা জন্মে। এই ঘাস লতা-পাতা খেয়েই পাহাড়ি গুরু এমনি মোটা-তাজা হয়ে ওঠে। আমরাও তাদের প্রাকৃতিক ও আমাদের গবেষণায় সে পদ্ধতি পাই সে পদ্ধতিতে গরু পালনকারীদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।

 

"