পশুর সমাগমে জমেছে হাট ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

কয়েক দিন পরেই ঈদ। ঈদুল আজহা ঘিরে শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে ওঠেছে কোরবানির পশুর হাট। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের পালিত গরু। তবে কোনো কোনো হাটে ভারতীয় গরুও দেখা গেছে। কিন্তু হাটে বিক্রেতা ও পশুর উপস্থিতি থাকলেও ক্রেতাদের সমাগম কম। ফলে লোকসানের ঝুঁকিতে আছেন থাকা বিক্রেতারা ঈদের আগ মুহূর্তে মূল্য বৃদ্ধি আশায় গরুর দড়ি ধরে রেখেছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, পশুর দামের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়েও বেশি মূল্য হাঁকা হচ্ছে। তারা অপেক্ষা করছেন শেষ মুহূর্তে মূল্য কমার।

এদিকে হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর পুলিশবাহিনী। অনেক হাটে বসেছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মেডিকেল টিম। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার বড় পশুর হাটগুলোর মধ্যে শনিবার-মঙ্গলবার সান্তাহার রাঁধাকান্ত হাট ও আদমদীঘির হাট, শুক্রবার-সোমবার নশরতপুর হাট এবং বৃহস্পতিবারে দুপচাঁচিয়ার ধাপের হাট অন্যতম। এসব হাটের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাটগুলোতে বিভিন্ন এলাকার খামার ও গৃহস্থদের বাড়ির পোষা গরুর হাটে প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্য বছরের মতো এবারও স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা খামারিরা তাদের পশু বিক্রির জন্য আসছেন হাটে। তবে এ হাটে বিভিন্ন ধরনের গরু আমদানি হলেও মাঝারি গরুর চাহিদা ছিল বেশি।

সান্তাহার রাঁধাকান্ত হাট ইজারাদার দিদারুল ইসলাম প্রিন্স জানান, আজ শনিবার শেষ হাট হলেও ক্রেতাদের সুবিধার্থে আগামীকাল রোববারও কোরবানির হাট বসবে।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, কেশবপুর পৌর শহর, উপজেলার শুড়িঘাটা, ভান্ডারখোলা, মঙ্গলকোট, সাতবাড়িয়া ও সরসকাটি বাজারসহ মোট ছয়টি পশুর হাট বসেছে। এসব হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশি গরু দেখা গেছে। ভারতীয় গরু না থাকায় এসব হাটে এ বছর দাম গত বছরের তুলনায় একটু বেশি। দুই-একটি ভ্রাম্যমাণ পশুর হাটে ভারতীয় গরু দেখা গেলেও পৌর শহরের পশুর হাটে শুধু দেশীয় খামারে পালিত পশু দেখা গেছে।

যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পশুহাট হিসেবে পরিচিত উপজেলা সদরের পশুর হাট। এ হাটের ইজারাদার আফজাল হোসেন বাবু বলেন, প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে ২ হাজার গরু বিক্রি হচ্ছে। ৭০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা দামের গরু বাজারে এসেছে। শেষ মুহূর্তে আরো বেশি পশু বিক্রি হওয়ার আশা করছেন তিনি।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, গোবিন্দগঞ্জের অধিকাংশ পশুর হাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি। বিক্রি কম হলেও হাটে কোরবানির গরু উঠেছে প্রচুর। তবে উচ্চ মূল্যের কারণে পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

উপজেলার গোলাপবাগ পশুর হাট ঘুরে দেশি গরু-ছাগলের পাশাপাশি ভারতীয় গরুর আমদানি দেখা গেছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার বালুয়া, ফাসিতলা, চানপাড়া হাটে দেশি জাতের গরু আকার ভেদে ৪০ হাজার টাকা থেকে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। আকার ও রং ভেদে ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার গাজীরবাজারে যশোর, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার ১৮টি উপজেলা থেকে কয়েক শত গ্রামের গরু বিক্রির আশায় আনা হয়। এর মধ্যে দেশি গরুর সংখ্যায় বেশি। অনেকে গরু ধরে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু বিক্রি নেই।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের গরু বিক্রেতা লুৎফর রহমান জানান, তিনি বিক্রির জন্য চারটি গরু নিয়ে আসেন। একটি গরু মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি তিনটি দাম কম হওয়ায় তা বিক্রি করতে পারেননি। তিনি জানান, বিক্রি হওয়া গরুটি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দাম হওয়ার কথা ছিল।

গাজীরবাজার হাটের ইজারাদার সাগর বিশ্বাস বলেন, আমাদের হাটটি কয়েকটি জেলার মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছরই এই হাটে হাজার হাজার গরু উঠে। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরু বেচাকেনার অবস্থা খুব এটা সুবিধাজনক হয়নি।

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পাবনা বেড়া পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি চতুর হাটে পশুর আমদানি হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটের দিন হলেও ঈদের আগের দিন পর্যন্ত হাট চলবে বলে জানান হাটের ইজারাদাররা। হাটবারে ১২ থেকে ১৩ হাজার গরু ও ৪ থেকে ৫ হাজার ভেড়া-ছাগল ছিল বলে তারা জানান। এবার কোরবানির পশুর দাম স্বাভাবিক বলে জানান ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান (উকিল) ও ইদ্রিস আলী সরদার জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা এই হাটে আসেন। হাটে ছাগলের দাম বেশি বলে জানিয়েছে ইজারাদার মো. রফিকুল ইসলাম।

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট। গত বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে দূরদূরান্ত থেকে ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল নিয়ে আসতে দেখা গেছে। এছাড়াও রাজৈর বাসস্ট্যান্ডে, বাজিতপুর, বদরপাশা ইশিবপুর, কবিরাজপুর, কাশিমপুর, পাইকপাড়ায় হাট বসতে শুরু করেছে।

টেকেরহাটের ইজারাদার আবদুল হক বেপাড়ি ও মন্নান হাওলাদার জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর গরু অনেক বেশি। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরুর হাট বসাতে ক্রেতা কম হাটে। এ বছর ক্রেতা অনেক কম, তাই হাট তেমন জমে ওঠেনি।

 

"