শাহরাস্তিতে স্কুল মাঠে জমিদাতার ছেলের বাগান

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

শাহ্রাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুর শাহরাস্তি পৌরসভায় ভূমিদাতার পুত্রের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি উদ্ধারে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন এলাকাবাসী।

শাহরাস্তি পৌর এলাকার ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের অন্তর্গত সাহাপুর গ্রামে সাহাপুর পরিপূরক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। প্রান্তিক ও অবহেলিত এলাকাবাসীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আশির দশকে বাংলাদেশ এসোশিয়েশন ফর কমিউনিটি এডুকেশনের (বেইস) উদ্যোগে এই বিদ্যালয় স্থাপন করেন সাবেক সচিব মরহুম ড. এমএ সাত্তার। পরে ওই গ্রামের রায় চৌধুরী বাড়ির প্রয়াত নরেশ রায় চৌধুরী বিদ্যালয়কে ২১ শতাংশ জমি দান করেন।

স্থানীরা জানান, বেইসের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি স্থানীয় যুবকদের সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত সাহাপুর’ বিদ্যালয় সংস্কার ও পুনঃরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে। এতে ভূমিদাতার পুত্র ও বিদ্যালয়ের সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের সেক্রেটারি ইন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী (টুটুন চৌধুরী) মাঠে গাছ রোপণ করে বাঁশের বেড়া দেন। স্থানীয় যুবক ফজলে রাব্বি পাটোয়ারী মনির জানান, এই বিদ্যালয়ে আমার হাতেখড়ি। এখানে পিতা জায়গা দিয়েছেন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আর তার পুত্র জায়গা দখল করছেন এলাকার শিশুদের শিক্ষার পথ বন্ধ করতে। প্রায় একই কথা বলেন তরুণ সমাজ সেবক মো. মহসীন পাটোয়ারী।

বিদ্যালয়ের সর্বশেষ পরিচালনা কমিটির সদস্য আ. বারেক জানান, দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর নতুন করে বিদ্যালয়টি চালুর উদ্যোগের পর জায়গা দখলের বিষয়টি হীন মানসিকতার পরিচায়ক। বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সর্বশেষ কমিটির সভাপতি সুলতান আহম্মদ মাস্টার জানান, সাহাপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। কারো সঙ্গে আলোচনা না করে জায়গা দখলের খবর আমার কানে এসেছে। দানকৃত ভূমি ফেরত চাওয়া দুঃখজনক।

ইন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী জানান, যে কদিন বিদ্যালয় চলবে ততদিন জায়গা বিদ্যালয়ের থাকবে, বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের জায়গা আমরা নিয়ে নেব এমন মৌখিক কথাতেই আমার পিতা ভূমিদান করেছেন। যার কোন দলিলও হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমার সম্পত্তি আমি নিয়ে নিয়েছি। যদি বেইস চায় তাহলে আমি জায়গা ফেরত দেব।

বেইস পরিচালিত পঞ্চগ্রাম ড. শামছুল হক গণবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মাসুম ইকবাল জানান, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ভূমি দখলমুক্ত করতে যথাযত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা কাজী নূরুল আলম জানান, জায়গাটি সাহাপুর পরিপূরক বিদ্যালয়ের নামে বিএস খতিয়ানভুক্ত। বিদ্যালয় না চললে যথাযত প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কেউ ব্যক্তিগত ভাবে জমি দখলের এখতিয়ার নেই।

 

"