ঈশ্বরগঞ্জে বদলে গেছে পাটনিদের পেশা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ঈশ^রগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নদীতে নৌকা চালানোই ছিল পাটনি সম্প্রদায়ের একমাত্র পেশা। কালের আবর্তে হারিয়েছে নদী। তাই পেশা পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে পাটনিরা। যে পাটনিদের রক্তের স্রোতে ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার নামকরণ হয়েছে সেই পাটনি সম্প্রদায়ের মানুষের দিন কাটে নানা বৈষম্যে। নদী ও নৌকার পরিবর্তে বাঁশ-বেতের কাজ করে জীবন চলছে পাটনিপাড়ার বাসিন্দাদের।

ঈশ^রগঞ্জ পৌরসভার শিমরাইল এলাকায় ৩০ ঘর পাটনি পরিবার রয়েছে। পাটনিরা যে জায়গাটিতে ঘাঁটি গেরেছিলেন তার পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছিল কটিয়াপুরী থেকে কাঁচামাটিয়া পর্যন্ত মাইজগা নদী। বর্তমানে নদীটির কোনো অস্তিত্ব নেই। কালের বিবর্তে নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সে সময় নদী ও নৌকার সঙ্গে মিতালী করেই চলতো পাটনিপাড়ার পাটনিদের। কিন্তু এখন ওদের জীবন চলে বাঁশ-বেতের কাজ করে। নদী ও নৌকার ব্যবহার না হওয়ায় পাটনিরা তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন।

সম্প্রতি পাটনিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় পাটনিদের জীবনচিত্র। ৩০ ঘর হিন্দু পাটনি পরিবার বসবাস করেন ছোট্ট একটি জায়গায়। তাদের পূজা-অর্চনার জন্য একটি মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করলেও অর্থাভাবে মন্দিরটির কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। ভোটের সময় অনেকে পাটনিদের মন্দির ও জীবন মান উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময়ে কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

পাটনিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দলবদ্ধ হয়ে নারী-পুরুষ বাঁশ-বেতের কাজে ব্যস্ত। হাটবারের দিন শুক্র ও সোমবার ব্যস্ততায় কাটায় পাটনিপাড়ার প্রতিটি নারী-পুরুষ। কোলা, খুরি, ঢাকি, পাখা, চালুনিসহ নানা উপকরণ হাটবারের দিন বাজারে নিয়ে যান তারা। পাটনিদের তৈরি কোলার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বাঁশ-বেতের ব্যবহার ক্রমেই কমে আসায় ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাঁন মোহন পাটনি। তিনি বলেন, তাদের তৈরি জিনিসের উপযুক্ত বাজার না থাকায় তারা সঠিক দাম পান না।

পাটনিপাড়ার সবচেয়ে বৃদ্ধ প্রকাশ চন্দ্র পাটনি। ৯০ ঊর্ধ্ব প্রকাশ চন্দ্র পাটনি বলেন, ছোটবেলায় দেখেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা নৌকা চালাতেন। কিন্তু নদীগুলো আজ নেই। তাই তাদের পেশাও পাল্টেছে। তিনি বলেন, তাদের পাড়ায় একমাত্র মন্দিরটি নির্মাণের জন্য অনেকে আশ^াস দিয়েছেন। কিন্তু কাজ থমকে আছে। তাদের শ্মশানটিও বেহাত হতে চলেছে। তাই তাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাটানিপাড়ার পাশেই সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর লাইলী আক্তারের বাড়ি। তিনি বলেন, পাটনিপাড়ার মানুষের দিন চলে নানা কষ্টে। তাদের পূজা-অচর্নার জন্য মন্দিরটি জরুরি প্রয়োজন। সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

"