ঈদুল আজহা

হাতুড়ি ও শানে ব্যস্ত কামার শিল্পীরা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে কামার শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। দিনরাত টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়াগুলো। বাজারে ভালো লোহার দা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রকারভেদে প্রতিটি ছুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কাটারি ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন বাজারের কামারপাড়াগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বিরাম নেই হাপরেরও। সরগরম টুংটাং শব্দে। দিনরাত সমান তালে তারা এখন ব্যস্ত ছুরি, চাপাতি, দা, বটি, ছোট চাকু নতুন করে তৈরি ও শান দেওয়ার কাজে।

জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। ভোরের আলো ফোটার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন তারা। অনেক কামার পল্লীতে অতিরিক্ত চাপে নতুন করে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে অনেক কামার দোকানি।

কামার সুনিল দাস ও সনাতন কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে। কোরবানির ঈদ এলে কাজ ও বিক্রি বেড়ে যায়।

কামারপাড়ায় দা, বটি ক্রয় করতে আসা ফারুক আহমদ জানান, দুটো বটি ৮৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করলাম। দামটা একটু বেশিই মনে হল অন্যান্য বছরের তুলনায়।

কামার উত্তম চন্দ্র দাসের কাছে পুরাতন সরঞ্জামে শাণ দেওয়ার মজুরি জানতে চাইলে তিনি জানান, দা-ছুরি অনুযায়ী ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।

মাদারীপুর : জমে উঠছে মাদারীপুরের কামার পল্লীগুলো। কারিগরদের এক মুহুর্তও অবসর নেই। জানা গেছে, মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা মিলে প্রায় ১০০ কামার পরিবার রয়েছে।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা জায়, সারাবছর যে কাজ হয় ঈদুল আজহার সময় তার কয়েকগুন বেশি কাজ বেড়ে যায়। বছরের অন্য সময়গুলোতে সারাদিনে একজন কর্মকার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু ঈদুল আযহার সময়টাতে তাদের আয় বেড়ে যায় কয়েকগুন। ফলে কামাররা এ সময়টার জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন।

পুরান বাজার কামার পল্লীর শুনিল বেপারী (৪৫) বলেন, আমরা আরো ১০ দিন আগে থেকেই জিনিস পত্র তৈরির কাজ শুরু করেছি। ঢাকা ও বরিশাল থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে এগুলো তৈরি করে থাকি। ঈদুল আজহার সময় অর্ডার মোতাবেক জিনিস বেশি তৈরি করতে হয়। তিনি আরো জানান, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের কর্মব্যস্ততাও বাড়ছে। সময়মতো জিনিসগুলো তৈরি করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খন্ড। কেউ শান দিচ্ছেন, কেউবা আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। এক রকম পাল্লা দিয়ে কাজে নেমেছেন তারা। ভ্রাম্যমাণ কামাররা চষে বেড়াচ্ছেন ছোট-বড় বিভিন্ন হাট-বাজারে। এদিকে, কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা ও সংস্কারের জন্য কামারদের কাছে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। পীরগঞ্জের কলেজ বাজার এলাকার নারায়ণ কর্মকার জানান, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। এবার ঈদে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার সরঞ্জাম বিক্রি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় লোহার যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কামার শিল্পীরা। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে তারা দা, কুঠার, ছেনি, চাপাতি, কাটারি ও ছুরি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমতলী ও তালতলীর বিভিন্ন হাট বাজারের কামার পাড়া রাতভর টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, গত এক যুগ পূর্বে দুই উপজেলায় প্রায় দু’শতাধিক পরিবার এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। বর্তমানে আমতলী, তালতলী, পচাঁকোড়ালিয়া, ছোটবগী, কচুপাত্রা, আড়পাঙ্গাশিয়া, তালুকদার বাজার, গাজীপুর, চুনাখালী ও গোছখালীতে শতাধিক পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। এ প্রজন্মের অনেক পরিবারের সন্তানরা এ পেশায় আসছে না।

কামার শিল্পী গৌরঙ্গ কর্মকার বলেন, পৈত্রিকভাবে এ পেশায় এসেছি। বৃদ্ধ বয়সেও কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমার সন্তানরা এ পেশায় আসতে চাচ্ছে না।

তালুকদার বাজারের কালি দাস কর্মকার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর দা, চাকু ও কুঠার বেশি বিক্রি হচ্ছে।

গাজীপুর বাজারের শম্ভু কর্মকার বলেন, লোহার পাতের দাম বেশি হওয়ায় যন্ত্রাংশ তৈরিতে যে খরচ হয় সেই তুলনায় দাম পাচ্ছি না।

বাউফল (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর বাউফলের কামার পল্লীগুলো টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পুরাতন দা, ছুরি,বটি,চাপাতি শান দেওয়ার ধুম পড়েছে। কোরবানীকে ঘিরে অনেকটা ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাউফল পৌরশহরের সবগুলো কামারের দোকানে বিদ্যুৎচালিত শান মেশিনে ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক কাজ করছেন কামাররা। পাশাপাশি আগুনের বাদির মাধ্যমে লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন তারা। এছাড়া পাড়া মহল্লায় মৌসুম ভিত্তিক কামাররা বেত (শান দেওয়ার যন্ত্র) দিয়ে দা, বটিঁ, ছুরি, চাপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম শান দিচ্ছেন।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কামারের দোকানগুলোতে ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে। দা-ছুরি, বঁটি, চাপাতি, মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের কাজে মগ্ন কারিগররা।

উপজেরার কয়েকজন কামার দোকানির সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাজ বেশি হওয়ার অনেকেই দোকানে নতুন কাজের অর্ডার সীমিত করে ফেলেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এসে বাড়তি আয়ের আশায় হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়ায় গিয়ে তারা দা ছুরি সান দেওয়ার কাজ করছেন।

উপজেলার সরকারহাট বাজারের কামার শিল্পী শিমুল কর্মকার জানান, তার দোকানে কোরবানির ঈদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভাল বেচা বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন বেশ কিছু দা, ছুরি মেরামতের কাজ তার দোকানে আসছে।

শিকাপুর বুড়িশ্চর এলাকার কামার শিল্পী সুবল দাশ ও সুমন কর্মকার জানান, ঈদ উপলক্ষে তাদের কাজ ও ব্যস্ততা বেড়েছে। বেড়েছে আয়ও।

 

 

"