কাজিপুরে রাস্তার ওপর পশুর হাট

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহাদত ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে রাস্তার ওপর বসানো হয়েছে পশুর হাট। উপজেলার আলমপুর চৌরাস্তা বসানে এই হাটের ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পথচারীরা। সরকারি বিধান অনুযায়ী রাস্তার ওপর পশুর হাট বসান নিষিদ্ধ হলেও অননুমোদিতভাবে এই হাট বসিয়েছেন কাজিপুর পৌরসভা। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ আছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়া পশুর গাড়িকে বাধ্য করা হচ্ছে রাস্তার ওপর বসান হাটে বিক্রি করতে। পশু বিক্রি না হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

জেলার তালগাছী, সোহাগপুর, এনায়েতপুরসহ কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন থেকে চলছে বিশাল পশুরহাট। কিন্তু কাজিপুর পৌরসভার উদ্যোগে আলমপুরের চৌরস্তায় নতুন করে এই হাট বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর রাস্তায় আলমপুর চৌরাস্তা নামক স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল গরু-ছাগলের হাট। এ উপলক্ষে উপজেলাসহ জেলার অনেক স্থানে ঝুলানো হয়েছে রংবেরঙের ব্যানার। চারপাশে মাইকে চলছে কানফাটা প্রচার। সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবারে হাট লাগানোর কথা বললেও প্রতিদিনই চলছে এই হাট। জেলার চরাঞ্চল ও দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে কোরবানির পশু আমাদানির ফলে এ রাস্তায় সাইকেল, রিকশা, ভ্যান, বাস-ট্রাকসহ সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়। ফলে এ রাস্তায় যাতায়াতকারীদের দৈনিক এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

হাটের গরু আনা ইয়াসিন আলী জানান, চরাঞ্চল থেকে গরু বহনকারি নৌকাতে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন ১ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে হয়। চরাঞ্চলের মানুষরা তাদের গবাদি পশু বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত হাট এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর মহাসড়কটি বগুড়ার ধুনট উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। মহাসড়কে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অনেক পশুবাহী গাড়ি সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রি উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। কিন্তু কাজিরপুরে রাস্তার ওপর হাট বসানোতে অনেক সময় তারা বাধার মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে।

এদিকে রাস্তার ওপর গড়ে তোলা হাটে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা ভারতীয় গরুও দেখা যায়। স্থানীয় খামারিরা জানান, বিশ্বরোড দিয়ে পশুবাহী গাড়ি না এনে এই রাস্তাকে নিরাপদ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করছে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি। এতে সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প ক্ষতির মুখে পড়বে।

নতুন হাট আয়োজন ও জনদুর্ভোগের কথা জিজ্ঞাসা করলে আয়োজক পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন, তাই হাট বসিয়েছি।’

জানতে চাইলে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দীকি জানান, ‘হাটের ব্যাপারে আমরা কোন অনুমতি প্রদান করিনি।’

 

"