স্কুল মাঠ দখল করে হাট পরীক্ষা দিচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

দুর্গাপুরে বাজুখলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

এস এম শাহাজামাল, দুর্গাপুর (রাজশাহী)

রাজশাহী দুর্গাপুরে স্কুলের মাঠ দখল করে অবৈধ পশুর হাট বসিয়েছে স্থানী ইউপি চেয়ারম্যান। স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চললেও হাট জমিয়ে তুলতে চলছে মুহুর্মুহু মাইকিং। অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় না লিখে জমা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা উপজেলার বাজুখলসী সরকারি প্রাথমিক স্কুলের। গত সোমবার উপজেলার কানপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

অভিযোগ আছে, সরকারের কাছ থেকে ইজারা না নিয়েছেই বাজুখলসী চেয়ারম্যান সমসের আলী বিদ্যালয় জোর করে এ হাট বসিয়েছেন। অথচ গরু প্রতি দেড় হাজার ও ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

স্কুল সভাপতি বলছেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের চাপের মুখে বিদ্যালয় মাঠে পশু হাট বসতে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এজন্য স্থানীয় এমপি’র নামও ব্যবহার করছেন তিনি। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের অযুহাত, স্থানীয় এক মসজিদ উন্নয়নের জন্য এই হাট বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজুখলসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা। বিদ্যালয় মাঠটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বসা পশুার হাট বিদ্যালয় গেট ছাড়িয়ে গেছে। হাটে ক্রেতাবিক্রেতাদের কোনো রশিদ ছাড়াই হাসিল আদায় করছে তার কয়েকজন লোক।

হাটে পশু বিক্রেতারা জানান, হাটের কোনো ইজারা না থাকলেও অলিখিত ছাড়পত্র দিয়ে গরু প্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছাগলের ৫০০ টাকা করে আদায় করে নিচ্ছেন ওই মহলটি। এতে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্ট বিপাকে পড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

উপজেলার পাঁচুবাড়ীর এলাকার গরু বিক্রেতা আব্দুল হানিফ অভিযোগ করে বলেন, কোরবানির পশুর হাটের নামে গ্রামের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে তারা। চেয়ারম্যান ক্ষমতা দেখিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছেন।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শুধু ঈদ কেন্দ্র করেই হাট বসানো হয় না, প্রতি সপ্তাহে দুইদিন ওই স্কুল মাঠ দখল করে হাট বসানো হয়। এতে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান একেবারে পড়ে গেছে, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। তাদের দাবি, দ্রুত পশুর হাট বন্ধ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

বাজুখলসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মরিয় বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও হাট কমিটিকে নিষেধ করা হলেও তারা জোর করে পশু হাট বসিয়েছেন। এমনকি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা চলছিল। কিন্তু কোনভাবেই তাদের বুঝাতে পারিনি। তারা বারবার স্থানীয় এমপি স্যারের দোহাই দিয়েছেন।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের পরিচলনা কমিটির সভাপতি মুনছের আলী বলেন, চেয়ারম্যান সমসের আলীর চাপের মুখে আমি বিদ্যালয় মাঠে পশু হাট বসাতে বাধ্য হয়েছি। মাঠে পশু হাট বসাতে না দিলে সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিয়েছে।’ ইজারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা বিদ্যালয়কে হাট ইজারা বাবদ কোন অর্থ প্রদান করেননি। আমি তাদের বার বার হাট বসাতে নিশেষ করেছি তার পরেও তারা হাট বসিয়েছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সমসের আলী বিদ্যালয় মাঠে হাট বসানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা হাটের টাকা পকেটে নিবো না। সব টাকা মসজিদের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে।’ তবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়া ও ইজারা না নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আর কোন মন্তব্য করেননি।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘স্কুল মাঠে হাট বসানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাকে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় কেউ অভিযোগ করেনি। এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে দুর্গাপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানা নেই। তবে স্কুলের ভেতরে যদি হাট বসে থাকে, তা হলে আমি শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োনীয় ব্যবস্থা নেব।’

"