মাগুরা-কেশবপুরে পানির অভাব

মাঠে পাট কাটছেন না কৃষক প্রভাব পড়বে বোরো চাষেও

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আইয়ুব হোসেন খান, মাগুরা ও জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর)

বৃষ্টি ও বন্যার পানির অভাবে পাট জাগ (পঁচানো) দিতে পারছেন মাগুরা ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা।

পানির অভাবে পাট চাষের এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এই দুই এলাকার কৃষকরা।

এর আগে সেচ দিয়ে পাট চাষ করেছিলেন তারা। ফলন ভালো হয়নি বৃষ্টির পানির অভাবে। এখন জাগ দেওয়ার বিড়ম্বনার কারণে মাঠ থেকে পাট কাটছেন না অনেক কৃষক। কৃষি অফিস বলছে, মাটির নিচে পুতে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের ছাল বের করতে। কিন্তু কৃষকরা বলছেন, তাতে পাটের মান ঠিক থাকে না। ফলে লোকসানের মুখে পড়বেন তারা।

এ দিকে পাটের জমিতে ইরি-বোরা আবাদ করার কথা। পাট কাটতে দেরি হওয়ায় এবার বোরো আবাদেও প্রভাব পড়তে পারে।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় উঁচু হওয়ায় বর্ষার পানি ওঠে না এ জেলায়। চলতি বর্ষায়ও বৃষ্টি না হওয়ায় পাট কাটতে পারছে না চাষিরা। পাট পঁচানোর জন্য খালবিলে পুকুর-জলাশয়ে যে পানি দরকার জেলার অধিকাংশ এলাকায়ই তা নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, মাগুরায় এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ হাজার ১১০ হেক্টর জমি। সেখানে চাষ হয়েছে ৩২ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৭০০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৮ হাজার ৭৩০ হেক্টর, শালিখায় ৩ হাজার ৯২৫ হেক্টর ও মুহাম্মাদপুর উপজেলায় ১০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। হিসেব অনুযায়ি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশ ভাগ কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে জেলায়।

কৃষকরা জানান, উৎপাদন মোটামুটি হওয়ায় চাষিদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে। কিন্তু শেষ মূহুর্তে বৃষ্টি না হলে এসব জমির পাট শুখিয়ে খড়ি হয়ে যাবে। তাতে কিছু করা যাবে না।

অবস্থার কথা স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জাহিদুল আমিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমাদের দপ্তর থেকে পরামর্শ হিসাবে পাট পঁচাতে চাষিদের রিবন রেটিং পদ্ধতি কথা বলা হয়েছে। এতে করে পানি, জায়গা ও সময় কম লাগবে, আঁশের মানও ভাল হবে, মূল্য বেশি পাওয়া যাবে এটি একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা। এছাড়া ছোট ছোট পুকুরে স্যালো মেশিনে পানি দিয়ে পুকুরে পাট পচানো যেতে পারে।

নদী-নালায় পানি স্বল্পতা সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার জাহান সুজন জানান, এ সর্ম্পকে আমার তেমন কোন ধারণা নেই, তবে এমন হলে আমি খাল বিলের পানির জন্য কুষ্টিয়া জিকে প্রকল্প থেকে পানি আনতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা প্রতিনিধি জানান,

দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে কেশবপুরে খানাখন্দ, পুকুর, জলাশয়ে পানি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। সেচ দিয়ে পাট চাষ করেছিলেন উপজেলা কৃষকরা। বৃষ্টির অভাবে ফলন ভালো হয়নি। এখন পানির অভাবে পাট পঁচাতে পারছেন না তারা। অনাবৃষ্টির কারণে আগামী বোরো আবাদেও ফলনে ধস নামার আশঙ্কা করেছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে পাটের ছাল বের করে ১ মিটার গর্ত ও ৮ মিটার চওড়া করে মাটির নিচে পুতে পাটের রিবন রেটিং করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি অফিস।

কৃষি অফিসার মনির হোসেন জানান, এ বছর কেশবপুরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্র ছিল ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে। গত বছর পাট চাষ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশী। পানির অভাবে এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, অফিস থেকে পাটের আশ ছাড়ানোর কোন মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। অনেকেই পাট কাটছেন না। আবার অনেক কৃষকরা পাট পচাতে শুকনো খালে, পুকুরে সেচযন্ত্র দিয়ে ভূগর্ভের তুলে পাট পচানো চেষ্টা করছেন। তারা আরো জানান, পানির অভাবে পাট কাটতে দেরি হওয়ায় এবার বোরো আবাদেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সেজন্য এবারের ৮ হাজার ৮০০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে।

কেশবপুর প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক পাট কেটে ওই জমিতে বোরো আবাদ করে থাকেন। সেজন্য কৃষকরা পাট কাটতে না পেরে হতাশয় পড়েছেন।

শনিবার সকালে স্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভের পানি পুকুরে তুলে পাট পঁচানোর চেষ্টা করছিলেন বাগদাহ গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসমান। তিনি জানান, ৬ বিঘা জমিতে এবার পাট চাষ করেছেন। সেচ পানি দিয়ে আবাদ করে এখন পাট পঁচানোর জায়গা পাচ্ছেন না।

কাকিলাখালী গ্রামের কল্লোল দাস জানান, ১ বিঘা জমিতে পাঠ চাষ করেছেন, কিন্তু পানি অভাবে পাট কাটছেন না। একই কথা বলেন সাতবাড়িয়া গ্রামের আমজাদ হোসেন, আনছার দফাদার, অমেদ আলী মোড়ল, কুদ্দুস দফাদার, খোকন সরদার; মঙ্গলকোট গ্রামের মোশারফ হোসেন মোড়ল, গোলাম মোস্তফা মোড়ল, রকি গোলদার, মজিবর গাজীসহ অনেক কৃষক।

"