ভূঞাপুরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা পাড়ের মানুষের নৌকার চাহিদা বেড়েছে। উপজেলার ছোটবড় নদ-নদী, পুকুর, ডোবা-নালা পানিতে টুইটুম্বুর। ধুম পড়েছে মাছ ধরার। সেই সাথে নৌকা তৈরি ও মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। এছাড়া পানিবন্দী যমুনাপাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহন হচ্ছে ছোট-বড় নৌকা। এতে নৌকার হাট-বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে।

জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলা দিয়ে যমুনা ও ঝিনাই নদী বহমান। বারবার যমুুনার ভাঙনের শিকার হয় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম। আর এ উপজেলার অধিকাংশই চরাঞ্চল হওয়ায় চরে বসবাসকারীদের জীবিকা নির্বাহে একমাত্র সম্বল নদী ও চরের আবাদী ভূমি। নদীতে মাছ ধরে এবং চরে চাষাবাদ ও চর থেকে ঘাস সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে চলে অনেকের সংসার। তাই ঘুম থেকে উঠেই পার হতে হয় দীর্ঘ যমুনা ও এর অন্যান্য শাখা নদীগুলো। এজন্য যমুনার তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাছাড়া তারাকান্দী যমুনা সার কারখানার ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হয় নৌকা। আর মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় ছোট ডিঙ্গি নৌকা।

উপজেলার চর চন্দনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল মোরশেদ জানান, প্রায় ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যমুনা নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। এক্ষেত্রে যাতায়াতের একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। নৌকা তৈরির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষাকালে নৌকার কদর বেড়ে যায়। বর্ষার এক মাস আগে থেকেই পুরোদমে চলে নৌকা তৈরির কাজ। এসব কাজে নিয়োজিত আছে যমুনাপাড়ের কয়েক শত হতদরিদ্র মানুষ। সরেজমিন উপজেলার যমুনা নদী সংলগ্ন গোবিন্দাসী গিয়ে দেখা যায়, নৌকা তৈরির কাজ করছেন রহিম মিয়া নামের একজন কারিগর। তিনি ১০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। তার বাপ দাদারও পেমা ছিলো নৌকা তৈরি। নৌকা তৈরি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

রহিম মিয়া জানান, নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় শাল, কাঠাল ও আম কাঠ। ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি নৌকা তৈরি করতে সময় লাগে এক থেকে দেড় মাস। এতে খরচ হয় পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া তারা ৫ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকার নৌকাও তৈরি করেন। এসব নৌকা যমুনার তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে বছরের অর্ধেক সময় জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানান এই কারিগর।

"