কক্ষ সঙ্কটে হাসপাতালে পাঠদান

শ্রীমঙ্গল জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে হাসপাতালের রুমে চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এছাড়া ব্রেঞ্চ সঙ্কটে মাটিতে বসে পাঠ নিচ্ছে ৬৪ বছরের পুরোনো ‘জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ কমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্কুলের ৩০০ শিক্ষার্থী বেশীরভাগই চা বাগান শ্রমিক পরিবারের সন্তান।

১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে সরকারিকরণ হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পাকা অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দোচালা টিনের ঘরের মাত্র দুটি শ্রেণি কক্ষে ৩০০ ছাত্র-ছাত্রীকে দুই শিফটে কোনোরকমে পাঠদান করা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই সেখানে। স্কুলের বাহিরে টেবিল বসিয়ে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন শিক্ষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায, বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কক্ষের মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। এতে ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষকা সালমা আক্তার। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, গরমের মধ্যে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা গাদাগাদি করে মাটিতে বসে ক্লাস করতে বেশ কষ্ট পায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ নেই, ভাঙ্গা কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে কোন রকমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাঠদান। অপর শ্রেণি কক্ষে কোন বেঞ্চই নেই।

সংকটে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই শিক্ষিকা বলেন, শ্রেণি সঙ্কটে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে স্কুলের পার্শ্বে হাসপাতালের দুটি কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে একটিতে অফিসের আসবাবপত্র ও অপরটিতে শ্রেণি কক্ষ বানিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাখি, রঞ্জিতা, রবি দাস, তানজিলা, ঋত্বিক জানায়, আমরা ভালোভাবে ক্লাস করতে পারছি না। মাটিতে বসে আমাদের ক্লাস করতে হয়। তাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। গরমে আমরা একদম বসতেই পারি না।

প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী দাস বলেন, কক্ষ সঙ্কটের কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও হয়েছে। তারা শুধু নতুন ভবনের আশ্বাস দিচ্ছেন। একই কথা বলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরেশ কালেন্দি। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থাসহ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

"