পৌর শহরে ময়লার স্তূপ ফিরে যাচ্ছে সেবাপ্রার্থীরা

* পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘট * ১০ দিন ধরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশের পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। গত ১৪ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হওয়া ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন পৌর সভার যাবতীয় কার্যক্রম। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।

আন্দোলনরত একাধিক পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করছেন না পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। ফলে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে ময়লার স্তুপ জমে দুর্গন্ধে নাকাল পৌরবাসী। অধিকাংশ ড্রেন পরিস্কার না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ। এছাড়া অনেক সড়কে রাতে জ্বলছে না বাতিগুলোও।

এদিকে পৌরসভা থেকে নাগরিক সনদ, জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স তুলতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। কেউ আবার পানির বিল পরিশোধ করতে এসে কাউকে না পেয়ে চলে যাচ্ছেন। তবে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দিবেন না।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি পৌরসভায় ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বন্ধ করে দিয়েছে কার্যক্রম। এতে সেবাসহ সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠি পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, পৌর ভবনের সামনে ময়লা-আবর্জনার গাড়িগুলো সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা। পৌর মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলর অফিসে থাকলেও অন্য সব শাখার কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে।

৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিলি বেগম বলেন, আমার এক বছরের ছেলেকে টিকা প্রদানের জন্য এসেছি। এখন দেখছি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা কেউ নেই। এদিকে টিকা দানের সময়ও চলে যাচ্ছে। কামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি লাইসেন্স নবায়ন করতে এসেছি, কিন্তু পৌরসভায় কেউ না থাকায় কাজটি হয়নি।

পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হানিফ মুঠোফোনে বলেন, আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে ফিরবো না। পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সরকার যদি দাবি মেনে নেয় তাহলে আমরা ঘরে ফিরে আসবো।

পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, আমাদের পৌরসভা থেকে ৪০ জন স্টাফ ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য গেছেন। এ জন্য সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে।

পলাশ (নরসিংদী) : নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার সব ধরণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় গত নয় দিন ধরে পৌরসভা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে।

পৌর এলাকার আরিফ খন্দকার জানান, টানা কয়েক দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনগুলো পরিস্কার না করার কারণে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে এলাকার জনগণ।

সেবা নিতে আসা রফিক উদ্দিন বলেন, নাগরিক সনদ না তুলতে পেরে চাকরির জন্য আবেদনও করতে পারছি না। আগামী দুই দিনের মধ্যে পৌর কার্যালয় না খুললে আমার আর চাকরির আবেদন করা হবে না। কবে এই তালা খুলবে তা কেউ বলতে পারছে না।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোশিয়েশন ঘোড়াশাল পৌর শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, অ্যাসোশিয়েশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরবো না। একই কথা জানিয়ে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোশিয়েশন ঢাকা বিভাগের সভাপতি ও ঘোড়াশাল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার সাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি দেয় সরকার, আর বেতন দেয় পৌরসভা। এভাবে চলতে পারে না।

অসুবিধার কথা স্বীকার করে পৌর মেয়র শরিফুল হক জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে নাগরিক সুবিধা ও রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। ফলে নগর উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে।

সুজানগর (পাবনা) : ৩০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত পাবনার সুজানগর পৌরসভার সব প্রকার সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে সুজানগর পৌর এলাকার বাসিন্দারা।

পৌর শ্রমিক-কর্মচারি ফেডারেশন সুজানগর পৌর শাখার সভাপতি পৌর সচিব গোলাম নবী ও সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্তা ব্যাক্তিরা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দাবি মেটানোর ব্যাপারে আন্তরিক না হওয়ায় কেন্দ্রীয় পৌর শ্রমিক-কর্মচারি ফেডারেশনের আহ্বানে তারা লাগাতার ঢাকার প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে শ্রমিক কর্মচারিদের টানা আন্দোলনের ফলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ময়লা স্তুপ জমে রয়েছে। এতে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পৌর নাগরিকরা চলাচলের সময় প্রয়োজনে নাকে মুখে রুমাল দিয়ে বাজারে ঢুকে কেনাকাটা করছে।

পৌর এলাকার শফিকুল ইসলাম বাবু ও বিল্লাল হোসেন জানান, কাঁচা বাজারের অলিগলিসহ পৌর বাজারের প্রধান সড়কের পাশগুলোতে ময়লার স্তুপ জমে চলাচল পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই কথা বলেন ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী মাসুদ রানা।

পৌরসভার কঞ্জারভেন্সি ইন্সপেক্টর হাসান উদ্দিন জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে।

 

"