৫০০ মিটার সড়কে যেতে চায় না কোনো যান

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার মাত্র ৫০০ মিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এ সড়কটি দিয়ে কোন যানচলাচল করতে চায় না। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গীর্জা থেকে সেন্ট ইউফ্রেজিস্ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৫০০ মিটারের অধিক নয়। এই সড়কে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই তাতে হাঁটু পানি জমে যায়। একই অবস্থা পুরাতন বান্দুরা বাজার থেকে ওই স্কুল এ- কলেজে যাওয়ার রাস্তার। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে র্দুঘটনা, বিকল হচ্ছে গাড়ি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে হাসনাবাদ সেন্ট ইউফ্রেজিস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বান্দুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া হাসনাবাদে ঐহিত্যবাহী জপমালা গির্জায় প্রতি রোববার কাঁচারীঘাট, পুরাতন বান্দুরা, মোলাশীকান্দা, দেওতলা এলাকা থেকে কয়েকশ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এ সড়কটি দিয়ে গির্জায় যাতায়াত করে।

স্থানীয়রা জানান, সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতসহ, বাজার, মার্কেট, বাস স্টেশন, উপাশনালয় যাতায়াতে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের অবহলোর কারণে সড়কটি সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না।

হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা রতন ডি. কস্তা বলেন, হাসনবাদ গির্জা থেকে স্কুল পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার হবে। সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ প্রয়োজনের সময়ও গাড়ি পাওয়া যায় না। এছাড়া বৃষ্টি হলে পাঁয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা যায় না। রোববার গির্জায় খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে বিশেষ প্রার্থনায় আসতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অটোরিকশা চালক মঞ্জু মিয়া বলেন, বান্দুরা থেকে দোহারের পালামগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি ভাল। কিন্তু ৪০০-৫০০ মিটার ভাঙ্গার কারণে কোন অটোগাড়ি বা রিকশা এই সড়কটি দিয়ে আসতে চায় না। বাধ্য হয়ে আমরা প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে দোহার যাই।

হাসনাবাদ সেন্ট ইউফ্রেজিস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার মার্গ্রেট বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া গির্জায় কোন অনুষ্ঠান হলে খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনদের খুব ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে বান্দুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হিল্লাল মিয়া প্রতিদিনের সংবাদ রাস্তাটির দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক দিন আগে রাস্তটি মেরামত করা হয়ে ছিল। রাস্তাটি আবার মেরামতের জন্য বেশ কয়েকবার উপজেলা প্রকৌশলী অফিসকে তাগাদা দিয়েছি কিন্তু এ বিষয়ে তাদের কোন আগ্রহ নেই। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটির ব্যাপারে আমি অবগত আছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।

 

"