নবীনগরে শিক্ষককে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পৌরসদরে এক শিক্ষককে আটকে রেখে মারধর ও জোরপূর্বক এক নারীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পাচঁ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় আদালত পাড়ার কেরামত আলী টাওয়ার ভবনের ২য় তলায় শিশু মিয়ার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষককে রাতেই নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ আসার খবর পেয়ে জড়িতরা ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের নাম মো. নজরুল ইসলাম। তিনি ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এরই প্রতিবাদ গত বুধবার দুপুরে নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে নবীনগর সদরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে।

হাসপাতালে শয্যাশায়ী শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, কেরামত আলী টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় শিশু মিয়ার ভাড়া বাসায় এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে ওইদিন রাতে তাকে ওই বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। বাসায় যাওয়ার পরই তাকে কয়েকজন দুবৃর্ত্ত ওই শিক্ষককে মারধর করে বেঁধে পাচঁ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক একটি মেয়ের সাথে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ঘরের চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই শিক্ষকের বাসায় গিয়ে নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। তারপর ওই শিক্ষককে মধ্যরাতে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

কতব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুল হুদা বলেন, প্রচন্ড মারধর করার ফলে শিক্ষকের অবস্থা বেশি ভালো নয়। পুরোপুরি ঠিক হতে সময় লাগবে।

এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, একজন শিক্ষকের উপর এ ধরনের অত্যাচার দুঃখজনক। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন, সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে সাড়াশী অভিযান অব্যাহত আছে।

"