উল্লাপাড়ায় ২১ কিলোমিটার রেলপথ

৭ ক্রসিংয়ের ৪টিতে নেই গেটম্যান

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রায় ২১ কিলোমিটার রেল পথে ৭টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৪টি অরক্ষিত। নেই কোনো গেট ম্যান। তাই দেওয়া হয় না ক্রসবার, জ্বলে না বাতি, বাজে না হুইসেল। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পার হয় যানবাহন ও পথচারী। ঘটছে দুর্ঘটনা।

সর্বশেষ গত সোমবার ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল পথের উল্লাপাড়ার বেতকান্দি হাটখোলা ঢালু লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রো সংঘর্ষে ১১জন নিহত হন। উপজেলার সলপ স্টেশনের কাছাকাছি এই দুর্ঘটনার পর থেকে স্থায়ী গেটের দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে দিনরাত মিলে ১৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে থাকে। সে হিসেবে ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল পথে দিনরাতে ৩৬ বার বিভিন্ন গন্তব্যে আসা যাওয়া করে এই ট্রেন। এছাড়া মালবাহী ও জালানী তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করে।

উল্লাপাড়া রেল স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুল হামিদ জানান, ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল পথের উল্লাপাড়ায় মোট ৩টি রেল স্টেশন রয়েছে। এগুলো হলো লাহিড়ী মোহনপুর, উল্লাপাড়া ও সলপ স্টেশন।

স্থানীয় রেল বিভাগ সূত্রে, ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল পথে নগরবাড়ী মহাসড়কে উল্লাপাড়া আরএস বাস্ট্যান্ডের কাছে, ঘাটিনা ঢালু ও মোহনপুরে গেট ব্যবস্থা রয়েছে। আর রেল পথের পূর্ব বংকিরাট, রুদ্রগাতী, শ্যামপুর ও বেতকান্দি হাট খোলা ঢালুতে কোন গেট ব্যবস্থা বা গেট ম্যান নেই।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গেটম্যানহীন এসব লেভেল ক্রসিংয়ে রেল বিভাগ থেকে একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়েই দায়িত্ব সেড়েছে। এতে সাবধানতা ও নিজ দায়িত্বে পারাপারের বিষয়ে লেখা রয়েছে। এর মধ্যে রুদ্রগাতী লেভেল ক্রসিংয়ে পাকা সড়ক হয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন বাহন চলাচল করে থাকে। স্থানীয়দের বক্তব্যে এটি একটি ঝুঁকিপুর্ণ লেভেল ক্রসিং। এখানে গেট ব্যবস্থা দরকার রয়েছে।

এদিকে সোমবারের দুর্ঘটনার পর রেল বিভাগ থেকে গত মঙ্গলবার হাট খোলা ঢালু এলাকায় রেল পথের ধারের গাছগাছালি কেটে ফেলা হয়েছে এবং একটি বাশের গেট নির্মাণ করা হয়। উল্লাপাড়া থেকে জেলা সদর মুখী পাকা সড়কটিতে রেল বিভাগ থেকে হাটখোলা লেভেল ক্রসিংয়ে কোন গেট কিংবা গেট ম্যান আগে নিয়োগ দেওয়া নেই। এখনকার ব্যবস্থা অস্থায়ী বলে জানা যায়। এ লেভেল ক্রসিং এলাকায় রেল পথের উভয় দিকে সড়ক পথে একাধিক বাক রয়েছে। এছাড়া রেল পথে গাছগাছালি ও লেভেল ক্রসিংয়ের কাছাকাছিতেই রেল পথের ধারে রেলের জায়গায় অবৈধ বসতবাড়ী রয়েছে।

স্থানীয়রা এই প্রতিবেদককে বলেন, আঁকাবাঁকা রেল পথের কারণে যানবাহন লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় রেল পথে ট্রেন আসাযাওয়া সহজে চোখে পড়ে না। গত সোমবারের মতো এর আগেও লেভেল ক্রসিংটিতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা হয়েছে। এ সড়ক পথে উল্লাপাড়া হয়ে বেলকুচি, কামারখন্দ, জেলা সদর, কড্ডার মোড়ে প্রতিদিন বহু সংখ্যক যান বাহন চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের পাশেই রেল পথের ধারে অবৈধ দখলে থাকা বসতবাড়ীটির উচ্ছেদের দরকার রয়েছে বলে তারা মনে করছে।

সরেজমিনে হাটখোলা ঢালুতে দেখা গেছেম রেল পথের ধারের বড় ছোট গাছগাছালি কেটে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া এক পাশে রেল বিভাগ থেকে অস্থায়ীভাবে বাশ দিয়ে গেট ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এলাকার লোকজন লেভেল ক্রসিংয়ে স্থায়ীভাবে গেট নির্মাণ ও গেট ম্যান নিয়োগ দেওয়ার বিষয় দাবী আকারে জানান।

উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, হাটখোলা লেভেল ক্রসিংয়ে এর আগে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিহতও হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাহনেরও ক্ষতি হয়েছেন। তিনি লেভেল ক্রসিংটিতে স্থায়ী গেট ব্যবস্থার দাবী জানান।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামে সকাল সাড়ে দশটায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের মাঝে উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানান। এ সময় তার সাথে ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান, পৌর মেয়র এস এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

"