সাঁথিয়ায় ২০ হাজার মানুষের ভরসা নড়বড়ে সাঁকো

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

খালেকুজ্জামান পান্নু, পাবনা

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার চিনিনাড়ী-বিলকলমীর গ্রামের বলেশ্বর নদীটি উপর নির্মিত সাঁকো দিয়ে ৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল করে। প্রতিবছরই এই সাঁকোটি ভেঙে যায় আর গ্রামবাসীরা মিলে প্রতিবারই হাঁড়ি চাঁদা তুলে পূননির্মাণ করে। স্বাধীনতার পর থেকে এভাবেই চলছে তাদের দিনের পর দিন। দেখার যেন কেউ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বড়াল নদীর শাখা বলেশ্বর নদীটি চিনিনাড়ীÑ বিলকলমীর উপর দিয়ে বয়ে গেছে। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ওই নদীর উপর গ্রামবাসীরা হাঁড়ি-চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সাঁকো তৈরি করেন। এই সাঁকো দিয়ে অত্র এলাকার নলভাঙ্গা, চিনিনাড়ী সেলন্দা, চরাচেথুলিয়া বিলকলমী, খামার সানিলাসহ অন্তত ৬ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পারা পার হয়। এমনকি আশপাশের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় ১ শ’ ফুট দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। প্রায়ই ঘটে কোন না কোন দুর্ঘটনা। কৃষকেদের কৃষিপণ্য পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসাও এই সাঁকো। বিকল্প হিসাবে অনেক দুর ঘুরে মাটির রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। আশপাশের বিভিন্ন হাট বাজারে যেতে কৃষিপণ্য ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি এখানে একটি ব্রিজের। তারা জানান, এখানে একটি ব্রিজ হলে শুধু এলাকারই উন্নয়ন নয় সাঁথিয়া, শাহজাদপুর ও বেড়া উপজেলার এবং পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ সম্ভব হবে।

সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চিনিনাড়ী ও বিলকলমী গ্রামের গোলজার প্রাং’র বাড়ির ওপারে আব্দুল হাই এর বাড়ির সামনে পাকা সড়ক পর্যন্ত গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি নতুন করে মেরামত করছেন। সেখানে তাদেরকে তদারকি করছেন চিনিনাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও চিনিনাড়ী দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছরই নিজেরাই গ্রামবাসী মিলে চাঁদা তুলে ও সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এ সাঁকোটি তৈরি করি। তবে সরকারী সহায়তায় একটি ব্রিজ হলে ৫-৬ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। অপরদিকে সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যেমে সাঁকো তৈরি করতে আসা চিনিনাড়ী গ্রামের সন্তোষ জানান, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছরই আমরা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এখানে সাঁকো তৈরি করি। আমাদের দেখার কেউ নেই।

 

"