সরাইলে বধ্যভূমি থেকে শহীদের নামফলক উধাও

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ধর্মতীর্থ এলাকার বধ্যভূমি থেকে শহীদদের নামফলক ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরমক্ষোভ বিরাজ করছে। আবাহাওয়া অনুকুলে এলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। বধ্যভূমির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে এমনটা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চুন্টা সেনবাড়ির ২২ জনসহ সরাইল থানায় ও কালিকচ্ছ ক্যাম্পে আটক শতাধিক লোককে ৭১’র ১৮ অক্টোবর ধর্মতীর্থ নৌ ঘাটে লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকবাহিনী। তবে সবার পরিচয় মেলেনি। পরবর্তীতে ধর্মতীর্থ বধ্যভূমি হিসেবে জায়গাটি পরিচিতি পায়।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. জিয়াউল হক মৃধার সহায়তায় ওই বধ্যভূমিতে ১২ ফুট উচ্চতা ও ৪ ফুট প্রস্থের লোহার তৈরি একটি ফলক স্থাপন করা হয়। ফলকে ৪৬ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা লাগানো হয়। পরবর্তীতে ফলক থেকে নামের তালিকাটি চুরি হয়ে যায়। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানসহ অনেকে বধ্যভূমিটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। গত বুধবার রাতে কে বা কারা বধ্যভূমির ওই নাম ফলকটির নিচের ঢালাই করা পিলারের লোহার তৈরি খুঁটি ভেঙে নিয়ে যায়।

বধ্যভূমি সংলগ্ন চাকসার গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ, আবদুল মতালিব মিয়া ও জনাব আলী বলেন, ‘রাসেল ও বাবু মুন্সিসহ বেশ কয়েকজন মিলে ফলকটি ভেঙে নিয়ে গেছে। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তারা এটা করেছে।’ সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি বধ্যভূমি হিসেবে অনেক আগেই চিহ্নিত হয়েছে। অতীতেও এমন ঘটনা সেখানে ঘটেছে। এবার চিনতে পেরেছি। বুধবারের ঘটনা ঘটিয়েছে মুসা চেয়ারম্যানের ছেলে রাসেল ও বাবু মুন্সি নামের একটি ছেলে। এরা মাক্কি মিয়ার একজনের লোক। আমরা এ ঘটনার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আবহাওয়া ভাল হলে এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি দিব।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ এস এম মোসা সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘নামফলক ভাঙ্গার বিষয়টি আমি শুনেছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।’

 

"