মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

ঘোষণার সাড়ে ৪ বছরেও চালু হয়নি আইসিইউ-সিসিইউ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার জেলায় কোথাও নেই সরকারী কোন আইসিইউ ও সিসিইউ সার্ভিস। জেলার ২৫ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য নেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (সিসিইউ)। অথচ মৌলভীবাজার হাসপাতালে এই বিশেষায়িত ইউনিটগুলো চালুর সব সুবিধা রয়েছে। রয়েছে নির্দিষ্ট কক্ষও। শুধু যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল সংকটের কারণে সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনের দ্বিতীয় তালার দুই দিকেই দুটি বড় বড় কক্ষ। এগুলো হচ্ছে আইসিইউ ও সিসিইউ এর জন্য নির্দিষ্ট। কিন্তু বিশেষায়িত এই ইউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও চালু হয়নি। কক্ষগুলোতে গিয়ে দেখা যায় কিছু বক্স পড়ে আছে। সিসিইউ কক্ষে গিয়ে দেখা গেল ফ্যান চলছে আর হাসপাতালের ব্যবহৃত কাপড়গুলো ঝোলানো আছে। অথচ এই কক্ষগুলো নিবিড় চিকিৎসা প্রদানের জন্য বরাদ্ধকৃত। কিন্তু আইসিইউ ও সিসিইউ চালু না হওয়ায় স্টোর রুমে পরিণত হয়েছে।

২০১২ সালের ১ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। এর আগে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।

হাসপাতালের একটি পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। জরুরী বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ রোগী চিকিৎসা সেবা নেন। এছাড়া অন্ত:বিভাগে প্রায় ৩শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন।

২০১৪ সাল থেকে এবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত হাসাপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় প্রায় ২হাজার রোগীর। মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৩০০ এর বেশী। অনেক সময় অভিযোগ উঠে ভূল চিকিৎসার। গত কয়েক বছরে প্রায় শতাধিক এমন অভিযোগ গণামাধ্যমে ছাপা হয়েছে। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা সার্ভিস প্রদান করলে এর হার হয়ত কমত। কোন রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হলে যেতে হয় সিলেট অথবা ঢাকায়।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগের সামনে দেখা যায় প্রচুর পুরুষ ও মহিলারা দাঁড়িয়ে আছেন। তারওপর অন্ত:বিভাগের জরুরী রোগীদের বড়তি চাপতো আছেই। একি অবস্থা এক্সে বিভাগেরও। রোগীদের দাবি হাসপাতালে আরো নতুন দুটি মেশিন বসানো হোক। তাহলে কিছুটা হলেও চাপ কমতো।

বৃষ্টির সময় নতুন ও পুরনো ভবনের ছাদের অনেক অংশ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে। পুরনো ভবনের জরুরি বিভাগ, রান্নাঘর, পুরুষ ও মহিলা সার্জারি, অন্ত:র্বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার কারণে কক্ষগুলোর অবস্থা শোচনীয়। এতে করে রোগীর সেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তবে হাসপাতালের কিছু সংস্কার কাজ চোখে পড়েছে।

হাসপাতালের রন্ধনশালার ভবনটি নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার অশঙ্খা করা হচ্ছে। এছাড়া ৫০ শয্যার জন্য করা রন্ধনশালাটি বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য আর উপযোগী নয় বলে জানায় এর প্রধান। এছাড়াও হাসপাতালের বজ্য ব্যবস্থাপনা, পুরাতন মর্গ ঘরের অবকাঠামোসহ আরো অনেক সংকট রয়েছে। হাসপাতালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেলেও মোটামোটি সেবা নিতে পারেন। চাইলেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাওয়া যায়। কিন্তু আড়াইটার পর থেকে বিপত্তি ঘটে। তখন ইমারজেন্সি ডাক্তার নার্স ও ব্রাদাররা ছাড়া সেবা দেওয়ার কেউ থাকে না।

ভর্তি থাকা কোনো রোগীর জটিলতা দেখা দিলে আড়াইটার পর চিকিৎসক পেতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। তখন কেবল জরুরী বিভাগে একজন মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত থাকেন। তাকে ডাকলে জরুরি বিভাগ সামলে আসতে আসতে অনেক দেরি হয়ে যায়।

আবার নার্সদের মধ্যে অনেকেই হাতে সুচ দিয়ে রক্ত নিতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালে ভর্তি এক রোগী। তিনি বলেন, নার্সরা খুব খারাপ আচরণ করেন। তাদের অনেক রিকুয়েস্ট করে সেবা নিতে হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথি দত্ত কাননগো বলেন, জনবল সংকটের কারণে আইসিইউ ও সিসিইউ সার্ভিস চালু সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আমরা সব বিভাগকে সচল রাখতে সম্ভব হয়েছি। দেশের অন্যান্য হাসপাতাল থেকে আমাদেরটা ভিন্ন। প্রত্যেক মাসেই অনলাইনের মাধ্যমে আমরা হাসপাতালের সংকট মন্ত্রণালয়ে পাঠাই।

 

"